জালিয়াত চক্রের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন না করতে ঢাবি প্রশাসনের সতর্ক

কোন প্রকার প্রতারণার ফাঁদে পা না দেয়া ও জালিয়াত চক্রের সাথে আর্থিকভাবে লেনদেন না করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন। ঢাবি অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা আত্নসাতের অভিযোগে দুইজনকে আটক করার পর এ সর্তক করল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের জালিয়াতি যারা করবে বা যারা এর আশ্রয় নেবে তারা আইনগতভাবে অপরাধী হবে। তাই প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে যেন আইনগত অবস্থার মুখোমুখি না হতে হয়, সে বিষয়ে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের সচেতন ও সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস ও প্রক্টরিয়াল বডি সকল জালিয়াতির ব্যাপারে সদা সক্রিয় রয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজের বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে একটি জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরে বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের থেকে জানা যায়, ফয়সাল মাহবুব (ফেক অ্যাকাউন্ট) নাম ব্যবহার করে জালিয়াত চক্র ফেসবুকে সাত কলেজের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। জালিয়াত চক্র একইসঙ্গে ডিগ্রি (পাস) এর শিক্ষার্থীদের একটি ফেসবুক গ্রুপেও কমেন্ট করে টাকার বিনিময়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে দেয়া এবং কম নম্বর প্রাপ্তদের বেশি নম্বর পাইয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। সে অনুযায়ী অনেক শিক্ষার্থী বিকাশের মাধ্যমে এই চক্রকে অর্থ প্রদান করেন।

বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে চলতি মাসের ১ তারিখে চলতি মাসের ১ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন এবং র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে আজ র‌্যাব-৩ এই চক্রের মূল হোতাসহ দুজনকে আটক করে। এসময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, মোবাইল ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, মাসুম রানা রনি (২৪), পিতা-মোঃ সাদেক মিয়া ওরফে শিশু মিয়া, সাং-বাদুর জমদ্দার বাড়ী, থানা-কসবা, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বর্তমান ঠিকানাঃ হোল্ডিং নং-১১১৯/৬(২য় তলা)ডিসিএসপি রোড, কলেজপাড়া কাউতলী (উঃ), থানা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং মোঃ আব্দুর রহিম সাদেক (২২), পিতা-মোঃ বাচ্চু মিয়া, সাং-হাতুন্ডা, থানা-চুনারঘাট, জেলা-হবিগঞ্জ।

এই ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আজ শাহবাগ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৩/২৪/৩০/৩৫ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়, যার নং ২৮।