জাবি ভর্তি বাছাই প্রক্রিয়া প্রশাসনের ‘অমানবিক’ সিদ্ধান্ত, ৩ ছাত্রসংগঠনের প্রতিবাদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) স্নাতক শ্রেণির ভর্তি ফরমের মূল্য বৃদ্ধি ও বাছাই প্রক্রিয়াকে প্রশাসনের ‘অমানবিক’ ও ‘মুনাফালোভী’ মানসিকতা দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে পৃথক পৃথক বিবৃতি দিয়েছে জাবি ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট ও ছাত্র অধিকার পরিষদ।

বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তি পরীক্ষার ফি অনধিক ৩০০ টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষার ফলাফলকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা হিসেবে গণ্য না করার দাবি জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ‘অযৌক্তিক’ সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে আন্দোলন করে প্রশাসনকে বাধ্য করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনগুলো।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) জাবির কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে এ, বি, সি, ডি ও ই ইউনিটের পরীক্ষার যে কোনো একটিতে পরীক্ষা দিতে দুই ধাপে পরিশোধ করতে হবে ১ হাজার ১৫৫ টাকা করে এবং অন্যান্য ইউনিটগুলোর ক্ষেত্রে দিতে হবে ৭৫৫ টাকা করে। এ পরিমাণ গত শিক্ষাবর্ষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। গত বছর ১১৫৫ টাকার স্থলে ছিল ৬০০ টাকা এবং ৭৫৫ টাকার স্থলে ৪০০ টাকা ছিল।

এক বিবৃতিতে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তুষার ধর ও সম্পাদক রাকিবুল রনি বলেন, করোনায় দেশের অধিকাংশ মানুষ যখন অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত, তখন ভর্তি পরীক্ষার ফরমের মূল্য না কমিয়ে উল্টো দ্বিগুণ করা জাবি প্রশাসনের এমন মুনাফালোভী সিদ্ধান্ত দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিবে।

তারা আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষার জিপিএ’র ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষায় বসার যোগ্যতা নির্ধারণের ফলে প্রকৃত মেধাবীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।

এদিকে জাবি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট আহবায়ক শোভন রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদের পাঠানো এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থী বাছাই করার নামে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করাকে ‘অমানবিক’ সিদ্ধান্ত হিসেবে দাবি করা হয়।

ছাত্রনেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পূর্ণ অবিবেচনাপ্রসূতভাবে সেই মূল্য প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় তার পাবলিক চরিত্র হারিয়ে আরও স্পষ্ট রূপে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের চরিত্রে অবনমন ঘটালো। মহামারির সুযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন ভর্তি ফরম বাণিজ্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

জাবি ছাত্র অধিকার পরিষদও তাদের বিবৃতিতে প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানান এবং পুনর্বিবেচনার দাবি করেন।