জাপানে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর থেকে জাপানে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা আটকে আছেন। জাপানে নতুন বিদেশিদের যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও শিক্ষার্থীরা যেতে পারছেন না। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যাংগুয়েজ ইনস্টিটিউট ইন বাংলাদেশ (আজলিব)।

আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংগঠনটির এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এ অনুরোধ জানান।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়াকিল আহমেদ বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে নতুন করে জাপানে যেতে বিধিনিষেধ আছে। এই নিষেধাজ্ঞায় পড়ে বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা আটকে আছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা টিকা নিয়েছেন। জাপান সরকারের সব শর্ত মেনেই তাঁরা যেতে প্রস্তুত।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আজলিবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৮ জানুয়ারির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অমিক্রনের সংক্রমণ ঠেকাতে নিজেদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে নতুন বিদেশিদের আগমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হবে কি না, শিক্ষার্থীরা তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

ওয়াকিল আহমেদ আরও বলেন, মধ্যে ২০ দিনের ভিসার আবেদনের জন্য সব খোলা থাকলেও শুরু হওয়ার আগেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। জানুয়ারির শেষ দিকে সরকারি বৃত্তি পাওয়া ৮৭ বিদেশি শিক্ষার্থীকে জাপান সরকার বিশেষ বিবেচনায় প্রবেশ করতে দিয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাপানে পড়তে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় সংখ্যক রয়েছে জাপানিজ স্কুলে ল্যাংগুয়েজ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা। এই শিক্ষার্থীদের জাপান যাওয়া আটকে যাওয়ায় তাদের মানসিক চাপ বাড়ছে এবং হতাশায় ভুগছে শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার।

জাপানে ল্যাংগুয়েজ প্রোগ্রামে এক বছর আগে ভর্তি হয়েও যেতে পারছেন না বলে জানান ওমর ফারুক নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এ রকম অনিশ্চয়তা হতাশার।

বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিষেধাজ্ঞা তুলে জাপানে প্রবেশের বিষয়ে শিথিল করার জন্য জাপান সরকারের প্রতি অনুরোধ জানায় আজলিব। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারকেও বিষয়টি দেখার অনুরোধ জানানো হয়।