জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির পদত্যাগ দাবি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন-অর-রশিদ ‘উচ্চশিক্ষাকে নিয়ে বাণিজ্য করছেন’— এমন অভিযোগ করে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরাম যশোর জেলা কমিটি। দ্রুত তাদের দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

আজ বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এ সময় চলতি প্রস্তাবিত বাজেটে অনার্স-মাস্টার্স শাখা এমপিও ভুক্তিকরণের দাবিও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম বলেন, সদ্য জাতীয়করণ করা কলেজ বাদে বর্তমানে যশোরে ২৫টি বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু আছে। সরকারি কলেজের বেশিরভাগ শিক্ষকরাই বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক, আর জাতীয়করণকৃত কলেজ এবং বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের সবাই নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক। বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজগুলোতে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে পাঠদানকারী এসব শিক্ষকরা জনবলকাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত না।

আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম বলেন, আরও দুঃখের বিষয়, শিক্ষকদের সম্মানির কথা বলে পাঠদানরত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কলেজভেদে, অন্যান্য খরচবাদে মাসিক ৩০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা নিলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ কখনই এসব শিক্ষকদের সঙ্গে সুবিচার করেনি। যশোরের ক্ষেত্রে, কলেজভেদে এসব শিক্ষকদের সম্মানি সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

তরিকুল বলেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতির কাছে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে স্মারকলিপি দিয়েছি ও তাদের সঙ্গে বৈঠক করে যখন সবকিছু গুছিয়ে আনি, তখনই ভিসির বিরোধিতায় সব ভেস্তে যায়।

তরিকুল আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি করার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মূল লক্ষ্য হলো উচ্চশিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য করা। যিনি শিক্ষকদের রুটি-রুজির বিপক্ষে অবস্থান নেন তিনি শিক্ষাবান্ধন উপাচার্য হতে পারেন না। সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদের পদত্যাগের দাবি করে প্রস্তাবিত বাজেটে তাদের এমপিওভুক্ত করার দাবি জানান।

এর আগেও গত ১৯ জুন (বুধবার) উপাচার্য হারুন-অর-রশিদকে এমপিওভুক্তির বিরোধিতাকারী আখ্যা দিয়ে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে বরিশাল বিভাগের বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরামের নেতারা।

অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন-অর-রশিদ দ্য রাইজিং ক্যাম্পাসকে বলেন, সকল নাগরিকের সভা-সমাবেশে কথা বলার অধিকার রয়েছে। আন্দোলনকারীরা আমার পদত্যাগ চাইতেই পারেন, তবে তারা যদি তাদের দাবি বাস্তবায়ন করতে পারেন তাহলে তাদের সবাইকে মিষ্টি খাওয়াব।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, আমরাও এসব থেকে মুক্তি চাই, তবে যে দাবিটি করা হয়েছে এটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ারের বাইরে। গভর্নিং বডি এসব শিক্ষকদের নিয়োগের অনুমতি দিয়েছে। এসময় তাদের শর্তে লিখে দেওয়া হয়েছে, আমরা যে শিক্ষক নেবো তার বেতন আমরা দেবো। এখন এসব শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করতে হলে এটা শিাক্ষা মন্ত্রণালয় করবে, না হয় গভর্নিং বডি এভাবে বেতন দেবে। তারা বেতন না দিলে শিক্ষকরা যদি আমাদের কাছে অভিযোগ করেন তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব।

উপাচার্য আরও বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এটা আমি জানিয়ে দিয়েছি, গভর্নিং বডির কেউ যদি এসময়ে কোন শিক্ষকের বেতন না দিয়ে আটকে রাখে তাহলে আমরা ওইসব কলেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। এটার বাইরে আমাদের আর কিছু করা নেই।