চিত্রনায়ক সোহেল রানা লাইফ সাপোর্টে

করোনায় আক্রান্ত চলচ্চিত্র অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে অভিনেতার স্ত্রী জিনাত বেগম। তিনি জানান, সোহেলকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।

জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে সোহেল রানা জ্বর-কাশিতে ভুগছিলেন। চিকিৎসকরা তাকে করোনা পরীক্ষার পরামর্শ দেন। পরে পরীক্ষা করালে তার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

২৫ ডিসেম্বর রাতে সোহেল রানাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এর দুদিন পর জানা যায়, চিকিৎসকেরা তাকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে গেছে, খাওয়া-দাওয়ায় কষ্ট হচ্ছে।

মাসুদ পারভেজের জন্ম ১৯৪৭ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকাতে। তিনি শিক্ষা জীবনে একজন ছাত্রনেতা ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ঝাপিয়ে পড়েছেন মুক্তিযুদ্ধে। তার জন্ম ঢাকাতে হলেও পৈতৃক বাসস্থান বরিশাল জেলায়। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের সাথে যুক্ত হন, প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে মাসুদ পারভেজ এবং অভিনেতা হিসেবে সোহেল রানা নাম ধারণ করে।

মাসুদ পারভেজ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরপরই বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। প্রযোজক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন পারভেজ ফিল্মস এবং এই প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে চাষী নজরুল ইসলাম এর পরিচালনায় নির্মাণ করেন বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ওরা ১১ জন। এটি মুক্তি পায় ১৯৭২-এ। অভিনেতা ও পরিচালক হিসেবে যাত্রা শুরু ১৯৭৩ সালে। কাজী আনোয়ার হোসেন এর বিখ্যাত কাল্পনিক চরিত্র মাসুদ রানা সিরিজের একটি গল্প অবলম্বনে মাসুদ রানা চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন সোহেল রানা নাম ধারণ করে এবং একই ছবির মাধ্যমে তিনি পরিচালক হিসেবে মাসুদ পারভেজ নামে। এই ছবিটি মুক্তির মাধ্যমে দর্শকরা তাকে পর্দায় দেখতে পান ১৯৭৪ সালে।