চামড়া পাচার রোধে বেনাপোল সীমান্তে সতর্ক বিজিবি-পুলিশ

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত পথে ভারতে চামড়া পাচার প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ও পুলিশ সতর্কতা জারি করেছে। ঈদের পরদিন বেনাপোল সীমান্তের কয়েকটি এলাকা ঘুরে বিজিবি ও পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়ে।

রোববার (০২ আগস্ট) বিকেলে সতর্কতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ২১ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুর-ই-এলাহী ও বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান।

জানা যায়, করোনার কারণে দেশে এবার চামড়ার বাজার মূল্য খুব নাজুক। কেনা দামেও ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না। সরকারি দামে ক্রয়-বিক্রয়ে সাড়া নেই কারো। ফলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন ভারতে বেশি দাম থাকায় অবিক্রিত চামড়া পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চামড়ার বাজার ঘুরে দেখা যায়, যশোরের বেনাপোল এলাকায় ৫ মণ ওজনের গরুর চামড়া সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ এবং ১০ মণ গরুর চামড়া ৬শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ৫ মণ ওজনের কোরবানি গরুর চামড়া ৪শ থেকে ৬ রুপি ও ১০ মণ ওজনের গরুর চামড়া প্রতি পিস ৮শ’ থেকে হাজার রুপি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে বিশেষ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বেনাপোল বাগে জান্নত কওমি মসজিদের মোয়াজ্জেন রেজাউল ইসলাম বলেন, এলাকার মানুষ তাদেরকে কোরবানির পশুর চামড়া দান করেছেন। কিন্তু চামড়ার দাম এবার খুবই কম। গরুর চামড়া ছোট বড় গড়ে সাড়ে ৪শ’ টাকা দাম পেয়েছি। গত বছর এ চামড়ার দাম ছিল ৭০০ টাকা পর্যন্ত। ছাগলের চামড়ার দাম হয়েছে প্রতি পিস ২০ টাকা।

২১ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মনজুর-ই এলাহী জানান, সীমান্ত পথে যাতে কোনোভাবে চামড়া পাচার না হয় তার জন্য বিজিবি সতর্ক অবস্থায় আছে। এছাড়া সব ধরনের চোরাচালান ও পাচার প্রতিরোধে কাজ করছে বিজিবি।

বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান জানান, চামড়া পাচার রোধে বিভিন্ন বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশকে সতর্ক রাখা হয়েছে। পুলিশের স্পেশাল একটি টিম ইতিমধ্যে জোরদার টহল অব্যাহত রেখেছে।