চাকরির পরীক্ষায় অনুবাদে ভালো করার কৌশল

বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে অনুবাদ করতে হয়। এ ছাড়া চাকরির বিভিন্ন পরীক্ষায় অনুবাদের প্রশ্ন থাকে। ভাষা-দক্ষতা সবার সমান থাকে না, ফলে সবার অনুবাদ এক রকম হয় না। অনুবাদে ভালো করার ক্ষেত্রে দুটি ভাষাতেই দক্ষতা থাকা দরকার। যে ভাষা থেকে অনুবাদ করতে হবে এবং যে ভাষায় অনুবাদ করতে হবে। ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করার সময় যেসব কৌশল অবলম্বন করলে ভালো নম্বর পাওয়া যাবে, তা আলোচনা করা হলো।

অনুবাদ মূলত দুই ধরনের, আক্ষরিক ও ভাবানুবাদ। আক্ষরিক অনুবাদে সাধারণভাবে এক ভাষার বাক্য অন্য ভাষার বাক্যে রূপান্তর করা হয়। আর ভাবানুবাদের ক্ষেত্রে মূল ভাবকে ঠিক রেখে নিজের মতো অনুবাদ করার সুযোগ থাকে। তবে পরীক্ষার প্রশ্নে যেসব অনুচ্ছেদ দেওয়া থাকে, প্রায় সব ক্ষেত্রেই সেগুলোর আক্ষরিক অনুবাদ করতে হয়। ফলে অনুবাদটি আক্ষরিক অনুবাদ না ভাবানুবাদ হচ্ছে, এ নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই।

নিচে দুটি নমুনা উপস্থাপন করা হলো। অনুচ্ছেদ দুটির অনুবাদ করতে নিজে চেষ্টা করুন এবং খাতায় লিখুন। কোনো ধরনের অভিধানের সহায়তা নেওয়া যাবে না। লেখা শেষ হলে অনুবাদের প্রক্রিয়াগুলো লক্ষ করুন।

ক. The Rajput youth said to Babur, ‘Your majesty, just take this dagger and kill your worst enemy. I came today to murder you with this, but I saw with my own eyes that giving up life is greater than taking it.’ Babur raised the Rajput youth from the street with his own hand and lovingly said to him, ‘Realy, brother, it is greater to give life than taking it, but I for myself accept your life. From today you will live with me. I engage you as my body-guard.’

খ. Musing over his charming appearance the proud stag wandered about and at last entered a forest. He soon wandered into a thicket to take some rest. The hunter was in search of the stag. He soon made his appearance there. As he sighted the stag, he shot an arrow which found its mark. The beautiful horns which he admired so much got entangled in a thicket and held him fast. He could not then move.

লক্ষ করা যাচ্ছে, প্রথম নমুনাটি অপেক্ষাকৃত সহজ এবং দ্বিতীয়টি কঠিন। অনুবাদের জন্য প্রশ্নে দেওয়া অনুচ্ছেদটি সহজ হলে এক প্রক্রিয়ায় এবং কঠিন হলে আরেক প্রক্রিয়ায় অনুবাদের কাজ শুরু করতে হবে। অনুবাদটি কঠিন মনে হলে অনুচ্ছেদের সহজ শব্দগুলোর নিচে দাগ দেবেন। এ ক্ষেত্রে সর্বনাম পদ, অব্যয়, কনজাংশন ও আর্টিকেলসহ যেকোনো পরিচিত শব্দের নিচে দাগ দিন। আর যদি সহজ মনে হয়, তবে অনুচ্ছেদের কঠিন শব্দগুলোর নিচে দাগ দিতে হবে। এরপর পুরো অনুচ্ছেদটি আবার পড়ে অজানা শব্দগুলোর অর্থ বোঝার কিংবা অনুমান করার চেষ্টা করতে হবে। কোনো শব্দ বুঝতে না পারলে বিশেষ্যের বদলে সর্বনাম ব্যবহার করবেন, প্রয়োজনে ইংরেজি বিশেষ্য পদটা বাংলায় বানান করে লিখে দেবেন। যেমন প্রথম নমুনার ‘dagger’ মানে বুঝতে না পারলে ‘ড্যাগার’ লিখবেন, দ্বিতীয় নমুনার ‘stag’ মানে বুঝতে না পারলে স্ট্যাগ লিখবেন। আবার বুঝতে পারলে সর্বনামের বদলে বিশেষ্য পদ ব্যবহার করা যায়।

বাংলা বাক্যের বিন্যাস ও ইংরেজি বাক্যের বিন্যাস এক নয়। ইংরেজি বাক্যে ক্রিয়ার অবস্থান থাকে কর্তার পরে, আর বাংলা বাক্যে ক্রিয়া থাকে বাক্যের শেষে। সুতরাং, অনুবাদ করার সময় সেটি মাথায় রাখবেন। তা ছাড়া am, is, are-সহ অনেক শব্দের অর্থ বাংলায় লেখার প্রয়োজন হয় না। যেমন: It is greater to give life than taking it-এর অনুবাদ হবে ‘জীবন নেওয়ার চেয়ে জীবন দেওয়া মহত্তর’। এখানে ‘It is’ এর অর্থ লেখার দরকার হয়নি।

অনুবাদের সময়ে ইংরেজি বাক্য প্রয়োজনে একাধিক ছোট বাক্যে ভেঙে নিতে পারবেন। যেমন Babur raised the Rajput youth from the street with his own hand and lovingly said to him, ‘Realy, brother’. এই অংশের অনুবাদ হতে পারে এ রকম: বাবর নিজ হাতে রাস্তা থেকে রাজপুত যুবককে টেনে তুললেন। তারপর আর্দ্র স্বরে বললেন, ‘সত্যিই, ভাই…’। আবার বিপরীতভাবে, দুই বা দুইয়ের বেশি বাক্য জোড়া দিয়ে একটি বড় বাক্য বানাতে পারেন। যেমন: ‘The hunter was in search of the stag. He soon made his appearance there.’—এই অংশের অনুবাদ হতে পারে এমন, ‘শিকারি খোঁজ করছিলেন হরিণটিকেই, আর তাই তিনি দ্রুত সেখানে গেলেন।’

অনেক সময় বড় একটি অংশ হয়তো বুঝতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে আগের অংশের সঙ্গে পরের অংশ জোড়া দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। যেমন ‘Musing over his charming appearance the proud stag wandered about and at last entered a forest. He soon wandered into a thicket to take some rest’—এই অংশের অনেকখানি অংশ বুঝতে না পারার কারণে অনুবাদটি এমন হতে পারে: ‘গর্বিত স্ট্যাগটি অবশেষে জঙ্গলের ভেতরে ঢুকল। সে জঙ্গলের ভেতরে ঢুকল খানিক বিশ্রাম নেওয়ার জন্য।’ মাঝখানের কোনো লাইন পুরোপুরি বাদ দিতে চাইলে […] চিহ্ন দিয়ে দিন। নিজে বুঝে বাড়তি বাক্য বা বাক্যাংশ যোগ-বিয়োগ করা যাবে না। তবে, শব্দ যোগ-বিয়োগ করা যাবে।

উদ্ধৃতি চিহ্নযুক্ত উক্তি থাকলে উদ্ধৃতি চিহ্ন দিয়েই লিখবেন। পরোক্ষ উক্তিতে লেখা ভালো হবে না। তবে, বাচ্য পরিবর্তন করে লেখা যায়। অর্থাৎ, Active Voice-এর বাক্যকে Passive Voice-এ, কিংবা Passive Voice-এর বাক্যকে Active Voice-এ লেখা যাবে। অনুবাদের ক্ষেত্রে সহজ ও পরিচিত শব্দ ব্যবহার করা উচিত। লেখা শেষ করার পর অন্তত একবার পড়ে দেখুন। শব্দ, বাক্যের অংশ ইত্যাদি পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে।

মূলত অনুশীলনের ওপর অনুবাদের দক্ষতা নির্ভর করে। যখন নিজে অনুশীলন করবেন, তখন অবশ্যই ইংরেজি অভিধানের সহায়তা নেবেন। শব্দভান্ডার বাড়ানোর জন্য এমন অভিধান ব্যবহার করুন, যেখানে ইংরেজি শব্দের অর্থ ইংরেজিতেই দেওয়া থাকে। কেমব্রিজ বা অক্সফোর্ডের অনলাইন ডিকশনারি ব্যবহার করতে পারেন।

বিশেষভাবে খেয়াল রাখা দরকার
অনুবাদ করার আগে অনুচ্ছেদটি কমপক্ষে তিনবার পড়ে নিন। বঙ্গানুবাদ লিখে কোলনচিহ্ন দিয়ে লেখা শুরু করুন। দুই লাইনের মাঝখানে ফাঁকা রাখবেন, যাতে প্রয়োজনে সংশোধন করা যায়। অনুশীলনের জন্য ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদকীয় অনুবাদ করুন।