চবি রুটে ৬০ কি.মি গতিতে চলবে ট্রেন

রেলমন্ত্রীর ঘোষণার বছর ঘুরতেই নতুন ট্রেন পেতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঈদুল আজহার পরপরই নতুন ট্রেন চালু করতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। এর মধ্যে চবি রেল রুটে চলমান সংস্কার কাজ ও প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রকৌশল বিভাগকেও নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। আগামী মাসেই (আগস্ট) চবির নতুন ট্রেন চালুর লক্ষ্যে গত বুধবার চলমান সংস্কার কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. সুবক্তগীন পূর্বদেশকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে ¯িøপার, রেল ছিল কাঠের ও স্টিলের। এসবের পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল। এখন স্লিপার ও রেল পরিবর্তন করা হচ্ছে। এ রুটের সকল স্লিপার হবে কনক্রিটের। এছাড়াও প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করা হচ্ছে। আগে এ রুটে ১৫-২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চললেও এখন তা ৬০ কিলোমিটার বেগে চলবে। যে কারণে দ্রুত সময়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারবে। আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে সংস্কার কাজ শেষ হলে এ রুটে নতুন একটি ট্রেন চালু হবে। এ রুটে নতুন ট্রেন চালুর বিষয়ে মন্ত্রী মহোদয়ের স্বদিচ্ছা আছে।’
তবে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, ঈদের পরপরই এ রুটে নতুন ট্রেন চালু করতে পূর্বাঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন রেলমন্ত্রী। ইতোমধ্যে সংস্কার কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকৌশল বিভাগে নিজ থেকেই খোঁজ নিয়েছেন মন্ত্রী। মন্ত্রীর নির্দেশনার পরেই নতুন ট্রেন চালুর যাবতীয় প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন রেল প্রশাসন।
এর আগে গত বছরের ২৪জুলাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেললাইন পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে নতুন ট্রেন চালুর ঘোষনা দেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। সেসময় তিনি উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়ে মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন দেওয়া হবে। এতে থাকবে ওয়াইফাই ও শৌচাগারের ব্যবস্থা। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টেশনে আরও একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। জরাজীর্ণ এই রুটটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ার কথাও সেসময় মন্ত্রী বলেছিলেন। মন্ত্রী পরে চবি থেকে ফিরেই রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরকে নতুন ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, করোনাকালীন সময়ে বন্ধ থাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগেই নতুন ট্রেন চালুর সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চান রেলওয়ে প্রশাসন। এ রুটের সংস্কার কাজ শেষ করেই কয়েকদফা ট্রায়াল রান শেষ করে এ রুটে নতুন ট্রেন চালুর সকল আয়োজন শেষ করা হবে। পুরোদমে ট্রেন চালু করতে গেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এর পরেই মন্ত্রী উদ্বোধন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ট্রেন চালুর সূচনা করবেন।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, আখাউড়া-লাকসাম রেল সড়কের নির্মাণ প্রকল্পের বেছে যাওয়া স্লিপার-ফিটিংস দিয়েই এই রুটের সংস্কার কাজ হচ্ছে। যে কারণে বড় ধরনের কোন বাজেটের প্রয়োজন হয়নি। শ্রমিক খরচসহ আনুষঙ্গিক কিছু ব্যয় ধরে মাত্র দুই কোটি টাকায় এ রুটটি নতুনরূপে চালু হচ্ছে। এর মধ্যে রেললাইনে থাকা কাঠের স্লিপারগুলো তুলে কংক্রিটের ¯িøপার বসানো হচ্ছে। সকল লেভেল ক্রসিং গেটের সব ফিটিংস, পুনর্বাসন করা হবে। চবি স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম শেড হচ্ছে। পাশে আরো একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম হবে।