ঘোষণা দিলেও প্রকাশ হয়নি ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফল

রিটকারী আড়াই হাজার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে হাইকোর্টের রায় বাতিল হলেও এখনো ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। যদিও গত সোমবার (২৮ জুন) রায়ের দু/একদিনের মধ্যেই ফল প্রকাশও করার কথা থাকলেও এ সপ্তাহের শেষ দিনেও সেটি সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে এনটিআরসিএ সচিব ড. এ টি এম মাহবুব-উল করিম বলেন, ‘আমরা মূলত রায়ের কপির জন্য অপেক্ষা করছি। ওটা হাতে পেলে আমরা ফল প্রকাশ করতে পারবো। তার আগে সম্ভব নয়। কপি পেতে আমাদের হয়তো আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তারপর সেটির বিচার-বিশ্লেষণ করে সবকিছু দেখে ফল প্রকাশ করা যাবে।

কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে রেজাল্ট প্রকাশের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে বলে বলে জানা গেছে। এমনটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।’

গতকাল বুধবার নিয়োগ প্রত্যাশীরা এনটিআরসিএ অফিসে এসেছিলেন কিন্তু অফিস থেকে খারাপ আচরণ করা হয়েছে- এমনটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফল প্রকাশ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। চাইলেই প্রকাশ করা সম্ভব না। নিয়োগ প্রত্যাশীরা এসে একটা দাবি করলেইতো আর ফল দিয়ে দেয়া যায় না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমাদের কঠোর হতে হয়েছে।’

গত মঙ্গলবার (২৯ জুন) শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে পরামর্শ করেন এনটিআরসিএর কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত এনটিআরসিএর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছিলেন, ‘আমরা শিক্ষা উপমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে পরামর্শ করেছি। তিনি ডকুমেন্ট হিসেবে একটি লিখিত আবেদন চেয়েছেন। আবেদনে উপমন্ত্রী যেদিনই অনুমোদন দেবেন সেদিনই ফল প্রকাশ করা হবে। এক্ষেত্রে ৩-৪ দিন সময় লাগবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। এক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার বা শুক্রবারের মধ্যে ফল প্রকাশ করা যাবে।’

কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সচিব জানিয়েছেন ফল প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না। রায়ের কপি পেতে আরও সময় লাগবে। সেটি পেলে বিচার-বিশ্লেষণ করে ফল প্রকাশ করতে চায় এনটিআরসিএ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আপিল বিভাগের রায় দেয়ার পর চূড়ান্ত ফলাফল দেয়ার আগে আইনগত আরও কোনো জটিলতা আছে কিনা তা যাচাই করার জন্য আইনজীবী প্যানেলকে বলা হয়েছে। তারা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফলাফল দেয়া হবে।’

তবে ফল প্রকাশে আর কোনো কালক্ষেপণ কিংবা অজুহাত শুনতে চান না নিয়োগ প্রত্যাশীরা। তারা বলছেন, আমরা এসব অযুহাত ধরে ফেলছি। একবার বলে রায় আসলে রেজাল্ট, আরেকবার বলে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে বৈঠক করে রেজাল্ট। এরপর বলে শিক্ষা উপমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে রেজাল্ট। এখন বলছে রায়ের সার্টিফাইড কপি পেলে রেজাল্ট। এটা আমরা মানি না।

তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ প্রত্যাশী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি শান্ত আহমেদ বলেন, ‘আমরা চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি আমাদের সামনে আসেন না। ফল প্রকাশে কোনো প্রকার কালবিলম্ব কিংবা টালবাহানা আমরা দেখতে চাই না। প্রিলিমিনারি, রিটেন, ভাইভা দিয়ে আমরা নিবন্ধিত হয়েছি। আপিল বিভাগের রায়ে ও আমাদের পক্ষে এসেছে। তাহলে ফল প্রকাশে এত বাধা কোথায় ‘

তিনি বলেন, ‘আমাদের শঙ্কা, কিছু অসাধু ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আর সংঘবদ্ধ চক্র ফলাফল প্রকাশ না করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতিও চরম বেকারত্বের কথা চিন্তা করে এই গণবিজ্ঞপ্তির ফল দ্রুত প্রকাশ করা সময়ের দাবি।’

ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ রাজু বলেন, ‘কোনো কথা ও অজুহাত চলবে না আর। দ্রুত রেজাল্ট না হলে হাজারো নিবন্ধনধারী এনটিআরসিএ অফিসের সামনে হাজির হবে। অধিকার ছিনিয়ে নিতে বাধ্য হবে তারা।’