ঘর রেডি হইছে, কাল নতুন ঘরে উঠবো

করোনার প্রাদুর্ভাবে দেশের মানুষের কষ্ট সইতে না পেরে জমানো টাকা সরকারের ত্রাণ তহবিলে দান করেছিলেন ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিন। দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী সেই ‘দাতা ভিক্ষুক’ রোববার (১৬ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের আধুনিক পাকা ঘরে উঠবেন। নতুন পাকা ঘরের চাবিও তুলে দেওয়া হবে তার হাতে।

প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার উপহার পেয়ে খুশি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামের মৃত ইয়ার উদ্দিনের ছেলে নাজিম উদ্দিন।

এর আগে সরকারের ত্রাণ তহবিলে হতদরিদ্র ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনের দানের খবরটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে এলে তিনি ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনের উদারতায় খুশি হয়ে নিজের তহবিল থেকে উপহার হিসেবে জমি, পাকা ঘর এবং দোকান করে দেওয়া ব্যবস্থা করেন।

নাজিম উদ্দিন যে ঘরটিতে এতদিন ছিলেন, সেটি মূলত সরকারের খাস জমি ছিল। বিষয়টি এতদিন ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনও জানতেন না। সরকারের এই খাস জমিও তার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নাজিম উদ্দিন যে ঘরে থাকতেন সেই জমি কিছুটা সম্প্রসারণ করে ১৫ শতাংশ জমি তার নামে বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

নাজিম উদ্দিনকে যাতে আর কখনো ভিক্ষা করতে না হয়, সেজন্য তাকে একটি দোকানও করে দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় হতদরিদ্র ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে তার অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসাও করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করে তিনি বলেন, ‘এ রকম প্রধানমন্ত্রী আমার ৮২ বছর বয়সে আর কহনো দেহি নাইকা। মনে করুন আমি তো করোনার জন্য ট্যাহাডা দিছি। সেখানে খুশি হইয়া প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে উপহার দিছেন, খুব আমি খুশি হইছি। ঘরবাড়ি সব দিল। আমি আর কোনো কিছু চাই না। ’

‘আমি দোয়া করি আল্লাহ তারে (প্রধানমন্ত্রী) দীর্ঘদিন বাঁচায়ে রাখুক। যতদিন বেঁচে থাকে ততদিন আল্লাহ তারে আজত্ব (দেশ শাসন) করার সুযোগ দিক।’

নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘ঘর রেডি হইছে। কাল নতুন ঘরে উঠবো, ডিসি সাব আইবো। ঘর পছন্দ হয়েছে। খুশি হইছি দেইখা। ’