গুলশানের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে কলেজছাত্রীর লাশ, যাতায়াত ছিল শিল্পপতির

রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান (মুনিয়া) নামের এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) ভোর রাতে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার সন্ধ্যার পর গুলশান ২ নম্বরের ১২০ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ওই তরুণী মিরপুরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত শফিকুর রহমান। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা সদরের দক্ষিণপাড়া উজির দিঘী এলাকায়। ওই তরুণীর সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় এক শিল্পপতির সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে।

উপকমিশনার সুদীপ বলেন, ‘দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে মোসারাত জাহানের পরিচয় ছিল। তিনি ওই ফ্ল্যাটে যাতায়াত করতেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘মোসারাত জাহান রোববার তার বড় বোনকে ফোন করে জানান তিনি ঝামেলায় পড়েছেন। এ কথা শুনে তার বড় বোন সোমবার কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসেন। সন্ধ্যার দিকে ওই ফ্ল্যাটে যান তিনি। দরজায় ধাক্কাধাক্কি করলেও বোন দরজা খুলছিলেন না। এরও কিছুক্ষণ আগে থেকে বোনের ফোন বন্ধ পাচ্ছিলেন। পরে বাইরে থেকে ‘লক’ খুলে ঘরে ঢুকে বোনকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখেন। পরে তিনি বাড়িওয়ালাকে বিষয়টি জানান। তখন পুলিশে খবর দেওয়া হয়।’

সুদীপ কুমার চক্রবর্তী আরও বলেন, ‘মেয়েটি কেন আত্মহত্যা করেছে এবং এর পেছনে কারো ইন্ধন রয়েছে কি না তা আমরা খতিয়ে দেখছি। ওই বাসা থেকে কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। ওই বাসায় কার যাতায়াত ছিল তা জানার চেষ্টা চলছে।’ তিনি জানান, ওই বাসার সিসিটিভি জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রাতে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে গুলশান থানায় মামলা করেন। জানা গেছে, মামলার আসামি করা হয়েছে দেশের একটি শীর্ষ শিল্পগ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি)। তিনি ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলে জানা গেছে।