গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয় আসন ফাঁকা রেখেই ক্লাস শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

একাধিকবার ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দিয়েও শিক্ষার্থী না পাওয়ায় আসন ফাঁকা রেখেই ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস শুরু করতে যাচ্ছে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম সন্নিকটে চলে আসায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ২০২১ সালের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো ২০টি সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৪ নভেম্বরের মধ্যে তিনটি ইউনিটের ফল প্রকাশিত হয়। ফল প্রকাশের পর নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তবে প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ই শিক্ষার্থী সংকটে ভুগছে। আসন পূরণে বারবার ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী পাচ্ছে না তারা।

সূত্র জানায়, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম নিকটে চলে আসায় আসন ফাঁকা রেখেই ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত আসলে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস কার্যক্রম শুরু করা হবে। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইমদাদুল হক বলেন, আসন ফাঁকা থাকলেও আমাদের ক্লাস শুরু করতে হবে। কেননা ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এই অবস্থায় খুব বেশিদিন স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম চলমান রাখার সুযোগ নেই। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী খরায় ভুগছে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২ হাজার ৯৫টি আসনের বিপরীতে তিনটি ইউনিটে ভর্তি হয়েছে ৮২৫ জন। এখনো ১ হাজার ২৭০ আসন খালি রয়েছে। এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ৫৫০টি আসনের মধ্যে ২৭৪টি, ‘বি’ ইউনিটে ১০৯৫টি আসনের মধ্যে ৭৪৬টি ও ‘সি’ ইউনিটে ৪৫০ টি আসনের মধ্যে ২৫০টি আসন ফাঁকা রয়েছে। আসন পূরণে তৃতীয় বারের মতো ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এই বিজ্ঞপ্তিতেও শিক্ষার্থী না পাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপ্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আব্দুস সালাম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু আসন ফাঁকা রয়েছে। এই আসনগুলো পূরণে তৃতীয় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। আশা করছি আমাদের এই আসনগুলো পূরণ হয়ে যাবে। তৃতয়ি বিজ্ঞপ্তিতেও যদি সেভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি না হয় তাহলে আমরা গণবিজ্ঞপ্তি দেব। এরপর আর অপেক্ষা করবো না। প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু করে দেয়া হবে। আসন ফাঁকা থাকলেও ক্লাস শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে তুলনামূলক বেশি জনপ্রিয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়টিও শিক্ষার্থী খরায় ভুগছে। জবিতে প্রথম বর্ষে আসন সংখ্যা দুই হাজার ৭৬৫টি। সপ্তম মেধাতালিকা প্রকাশের পরও বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্য বিভাগে ৫৪৩টি আসন ফাঁকা রয়ে গেছে। লোকপ্রশাসন বিষয়ে ৮০টি আসনের বিপরীতে সাতবার মেধাতালিকা প্রকাশ করে ৫৯ জন শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থী পেতে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এই অবস্থায় তারাও আসন ফাঁকা রেখেই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মূলত তিনটি কারণে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে প্রধান এবং অন্যতম কারণ হলো অধিক জিপিএপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিতে চাওয়ার প্রবণতা। গুচ্ছভুক্ত সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ই এসএসসি এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৮ প্রাপ্তদের ভর্তির জন্য ডাকা হয়েছে। তবে তাদের অধিকাংশই মেডিকেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটে ভর্তি হয়ে যাওয়ায় গুচ্ছে আসন ফাঁকা রয়েছে। কম জিপিএ প্রাপ্তদের ভর্তির জন্য ডাকা হলে আসন ফাঁকা থাকত না।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তারা বলছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়া। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ অনেক আগেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বড় বড় কলেজগুলোতে ভর্তি হয়ে যাওয়ায় তারা এখন আর গুচ্ছে আসতে চাচ্ছে না। এই অবস্থায় শিক্ষার্থী পাচ্ছে না গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

সবশেষ কারণ হিসেবে ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত শিক্ষকরা বলছেন, এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অনেক শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হয়ে গেছে। তাদের ভর্তির প্রায় এক বছর হয়ে গেছে। বেসরকারিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও এক বছর অতিক্রম হয়ে যাওয়ায় তারা এখন আর গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টেকনিক্যাল কিমিটির আহবায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর জানান, প্রথমবার গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমাদের কিছু ভুল হয়েছে। তবে সেগুলো ঠিক করলে এই সমস্যাগুলো আর থাকবে না। আমরা বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।

প্রসঙ্গত, গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪০১ জন। তবে সিলেকশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করায় ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ জন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সব মিলিয়ে আসন রয়েছে ২২ হাজার ১৩টি।