গুচ্ছভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা: প্রশ্নপত্র নিয়ে নানা প্রশ্ন

গুচ্ছভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের প্যাকেট নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার অনুষ্ঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কেন্দ্রে সরবরাহকৃত প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের প্যাকেজিং, দুর্বল সিলগালা, সই-স্বাক্ষরবিহীন ও প্যাকেটের মুখ আটকানো টেপ ধারালো অন্ত্র দিয়ে কাটা থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। এ নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা।

একই সঙ্গে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তার বিষয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। কেন্দ্র কর্তৃক প্রেরিত ওই কক্ষের প্রশ্নপত্রের প্যাকেটটি পরীক্ষা শুরুর পূর্বে অনিরাপদ অবস্থায় দেখতে পান কক্ষ পরিদর্শকরা।

প্রশ্ন ফাঁসের শঙ্কা থেকে তাৎক্ষণিক বিষয়টি ইউনিট সমন্বয়কারীর মাধ্যমে ইবিতে আসা প্রতিনিধি দলের প্রধান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আব্দুল গণিকে জানালে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং বিষয়টি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করেননি বলে জানা গেছে।

একইসঙ্গে স্পর্শকাতর এ বিষয়টি নিয়ে কোনা নির্দেশনা ছাড়া পরীক্ষা গ্রহণ ও কর্তৃপক্ষ থেকে বিষয়টি গোপন করে উত্তরপত্র নিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্বচ্ছতা নিয়ে। এছাড়া উঠেছে প্রশ্ন ফাঁসের গুঞ্জন উঠেছে। আতঙ্কে রয়েছেন ভর্তিচ্ছুরা। বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি নন কর্তৃপক্ষ। তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার যুগ্ম আহবায়ক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। তদন্ত করে দেখব।

জানা যায়, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ব্যবসা অনুষদভূক্ত ‘সি’ ইউনিটে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয় ১ হাজার ৪০৪ জন পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শুরুর ১ ঘণ্টা পূর্বে কক্ষ অনুযায়ী প্রশ্নপত্র বণ্টন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন ভবনের ১০২ নম্বর কক্ষে যে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয় তা খোলা হয় পরীক্ষা শুরুর চার মিনিট আগে। এ সময় প্রশ্নপত্রের খামে লাগানো স্কচটেপ কাটা থাকতে দেখেন পরিদর্শকরা।

ওই কক্ষের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলেন কক্ষ পরিদর্শক সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। তিনিসহ কক্ষের দায়িত্বরত একাধিক শিক্ষক জানান, প্রশ্নের প্যাকেটের মুখে সিলগালা কিংবা সিগনেচার করা ছিল না। এমনকি যে টেপ দিয়ে আটকানো ছিল সেটি ধারালো কিছু দিয়ে আগে থেকেই কাটা ছিল। বিষয়টি আমাদের কাছে সন্দেহ হলে প্রশ্ন বের করে নেওয়ার আশঙ্কা থেকে তাৎক্ষণিক সমন্বয়করীকে জানান। পরবর্তীতে কোনো নির্দেশনা না দিয়ে পরীক্ষা নিতে বলেন। এর আগে সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে গুচ্ছের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল প্রশ্নপত্রের ট্রাংক ইবির সি ইউনিট সমন্বয়কারীর কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি, ট্রেজারারসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।

ইবির ইউনিট সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিধি দলের প্রধানকে জানাই। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানাতে চাইলেও পরবর্তীতে কিছুই জানাননি। নির্দেশনা না দেওয়ায় আমরা আমাদের মতো কাজ চালিয়ে গিয়েছি। কাটা থাকার কারণে প্রশ্নপত্র বের করে নেওয়ার একটা আশঙ্কা থাকে।

এ বিষয়ে প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, শনিবার পরীক্ষা হয়েছে ওই দিন ইউনিট সমন্বয়কারী কিংবা প্রতিনিধি দলের প্রধানও আমাকে এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি। রোববার সন্ধ্যায় সাংবাদিকরা ফোন দেওয়ার পরে সমন্বয়কারী আমাকে জানিয়েছে। এর বাইরে আমি আর কিছুই জানি না।

প্রতিনিধি দলের প্রধান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আব্দুল গণি যুগান্তরকে বলেন, আমি যা বলার বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বরত শিক্ষকদের বলেছি। সাংবাদিকদের কিছু বলতে পারব না।

গুচ্ছ পরীক্ষার আহবায়ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এমদাদুল হক বলেন, অন্য ইউনিটে বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষা হয়েছে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি অস্বাভাবিক ঘটনা। যেহেতু শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশ্নের দায়িত্বে আছে। তারাই বিষয়টি ভালো বলতে পারবে।