গণপূর্তের প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে ও স্ত্রীর নামে মামলার অনুমোদন

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গণপূর্ত অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) কমিশন এই অনুমোদন দেয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় কমিশনের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী মামলাটি দায়ের করবেন বলে জানা গেছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, গণপূর্ত অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে ও তার স্ত্রীর নামে দুদক প্রায় ৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ পেয়েছে। ক্যাসিনোকাণ্ড ও জি কে শামীম সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানে এই অবৈধ সম্পদের তথ্য জানতে পারে কমিশন।

এর আগে ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর গণপূর্ত অধিদফতরের ১১ প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে চিঠি দিয়েছিল দুদক। তাদের মধ্যে উৎপল কুমারও ছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ১৮ ডিসেম্বর।

জানা যায়, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ‘বিতর্কিত’দের সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এ জন্য পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়। এই টিমটিই ক্যাসিনো নিয়ে কাজ করছে।

এর আগে, সেপ্টেম্বরে ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরুর প্রথম দিনই রাজধানীর ইয়াং মেনস ফকিরাপুল ক্লাব থেকে গ্রেফতার হন ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক (পরে বহিষ্কৃত) খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপর বিভিন্ন অভিযানে একে একে গ্রেফতার হন কথিত যুবলীগ নেতা ও ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি (বহিষ্কৃত) ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট, তার সহযোগী এনামুল হক ওরফে আরমান, অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান, তারেকুজ্জামান রাজীব ও ময়নুল হক মঞ্জু।

ক্যাসিনো সংশ্লিষ্টতায় দুদক পরে ২২ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) বরাবর চিঠি পাঠায়। চিঠিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দেশে মানি লন্ডারিংসহ বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ আছে৷ এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধানে বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

দুই সংসদ সদস্য ছাড়াও গণপূর্ত অধিদফতরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাই, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার, ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান (মিজান), গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক এনু ও তার ভাই গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রুপন ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় যুবলীগের বহিষ্কৃত দফতর সম্পাদক কাজী কাজী আনিছুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমি রহমান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ ও লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার স্ত্রী নাবিলা লোকমান, এনামুল হক এনুর সহযোগী ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের কর্মচারী আবুল কালাম আজাদ, রাজধানীর কাকরাইলের জাকির এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. জাকির হোসেন ও সেগুনবাগিচার শফিক এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শফিকুল ইসলামের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

জি কে শামীম সংশ্লিষ্টতায় অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক যাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তারা হলেন— জি কে শামীম, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূইয়া, অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান, কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ, কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান, তারেকুজ্জামান রাজীব, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি (বহিষ্কৃত) ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট, এনামুল হক আরমান, যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা, কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ, যুবলীগের দফতর সম্পাদক আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমি রহমান, ব্যবসায়ী মো. সাহেদুল হক এবং গণপূর্তের সিনিয়র সহকারী প্রধান মো. মুমিতুর রহমান ও তার স্ত্রী জেসমীন পারভীন।