ক্রাইস্টচার্চ হামলায় নিহত হামজার নামে বৃত্তি চালু

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে ২০১৯ সালের ১৫ মার্চে সন্ত্রাসীর হামলায় নিহত ৫১ মুসলিমের মধ্যে একই পরিবারের বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছিলেন। তাঁরা হলেন নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী সিরীয় অভিবাসী খালেদ মুস্তাফা (৪৪) ও তাঁর ছেলে হামজা মুস্তাফা (১৬)।

জর্ডানের শরণার্থীশিবিরে ছয় বছর থাকার পর হামজার পরিবার শরণার্থী কোটায় নিউজিল্যান্ডে বসবাসের অনুমতি পেয়েছিল। কিন্তু ক্রাইস্টচার্চ হামলায় হামজা ও তাঁর বাবা নিহত হন এবং হামজার ভাই আহত হয়। দুই ভাই বাবার সঙ্গে সেদিন জুমার নামাজ আদায় করতে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে গিয়েছিলেন। মসজিদে গিয়েছিলেন তিনজন কিন্তু ফিরে এসেছিলেন একজন, তা–ও আবার আহত অবস্থায়।

ঘোড়ায় চড়া ছিল হামজার শখ আর ছোটবেলা থেকেই তাঁর ইচ্ছা ছিল পশু চিকিৎসাবিজ্ঞানে (Veterinary Science) পড়াশোনা করার। কিন্তু ক্রাইস্টচার্চ হামলায় তাঁর সেই ইচ্ছার অপমৃত্যু ঘটে। তবে হামজার স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে মেসি ইউনিভার্সিটির পশু চিকিৎসাবিজ্ঞান বিভাগ (School of Veterinary Science of Massey University) হামজা মুস্তাফা স্মৃতিবৃত্তি (Hamza Mustafa Memorial Bursary) নামে একটি বৃত্তি চালু করল। আর এ বছর থেকে সে বৃত্তি প্রদান শুরু হয়েছে।

১১ আগস্ট হামজা মুস্তাফার মা সালওয়া মুস্তাফা এবছরের বৃত্তিপ্রাপ্ত ওয়াইটা জেডসের হাতে নিজের ছেলের নামে চালু হওয়া বৃত্তি তুলে দেন। ওয়াইটা জেডস বর্তমানে মেসি ইউনিভার্সিটির মানাউতু ক্যাম্পাসে পশু চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করছেন। এ বছর থেকে চালু হওয়া হামজা মুস্তাফা স্মৃতি বৃত্তির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হামজা মুস্তাফার মা, বোন ও ভাই ক্রাইস্টচার্চ থেকে পামারস্টোন নর্থ মেসি ক্যাম্পাসে এসেছিলেন। কান্নাভেজা ছোট একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হলো হামজা মুস্তাফা স্মৃতিবৃত্তির কার্যক্রম।

এ বৃত্তি কার্যক্রমে জড়িত মেসি ইউনিভার্সিটির পশু চিকিৎসাবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিনিধি কেট হিল ও এলোইস জিলিংস বলেন, ক্রাইস্টচার্চ হামলায় নিহত হামজা মুস্তাফার স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্যেই চালু করা হয়েছে বিশেষ এ বৃত্তি। প্রতিবছর পশু চিকিৎসাবিজ্ঞানে অধ্যয়নরত একজন শিক্ষার্থীকে প্রদান করা হবে হামজা মুস্তাফা স্মৃতিবৃত্তি। এ বৃত্তির মাধ্যমে হামজা মুস্তাফা বেঁচে থাকবে সবার মাঝে আর পরবর্তী নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে ক্রাইস্টচার্চের ন্যক্কারজনক হামলা সম্পর্কে যা থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা নিজেদের পরিশুদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।