ক্যাম্পের ভার্চুয়াল সংলাপ শিক্ষাবর্ষ ৬ মাস বৃদ্ধির প্রস্তাব

গণসাক্ষরতা অভিযান (ক্যাম্পে) আয়োজিত এক সংলাপে বক্তারা চলতি শিক্ষাবর্ষ ছয় মাস বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

তারা বলেছেন, করোনা মহামারির কারণে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষণ-শিখন কার্যক্রম বিপর্যস্ত। এ জন্য শিক্ষাবর্ষ আগামী জুন পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।

‘করোনায় বিপর্যস্ত শিক্ষা : কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক এ সংলাপ বৃহস্পতিবার ভার্চুয়ালি আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।

আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন, ক্যাম্পের ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর হোসেন, অ্যারোমা দত্ত এমপি, অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ, অ্যাকশনএইডের বাংলাদেশ পরিচালক ফারাহ কবীর, ঢাকা আহসানিয়া মিশনের নির্বাহী পরিচালক এহসানুর রহমান প্রমুখ।

সংলাপ সঞ্চালনা করেন শিক্ষাবিষয়ক বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) মোর্চা ক্যাম্পের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। মূল প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন ক্যাম্পের উপ-পরিচালক কেএম এনামুল হক। সংলাপে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধাপে ধাপে খুলে দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। যে এলাকায় করোনা সংক্রমণ নেই, সেটা বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে স্কুল খুলে দেওয়াই ভালো।

এ ছাড়া শিক্ষার স্বার্থে বিনা মূল্যে বা সাশ্রয়ীমূল্যে ইন্টারনেট সরবরাহের প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু ইন্টারনেট শিক্ষার স্বার্থেই যে ব্যয় হবে কিংবা শিক্ষার সুবিধার জন্য নেওয়া ইন্টারনেট অন্য কাজে ব্যয় বা ইন্টারনেটে কেউ বুঁদ হয়ে থাকবে না-এসব নিশ্চিত করাটা চ্যালেঞ্জ। হয়তো চিহ্নিত করা সম্ভব। এ নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন।

সচিব মাহবুব হোসেন ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমরা পাঠদান অব্যাহত রেখেছি। হয়তো সবার কাছে পৌঁছাতে পারছি না। তবে সেই সংখ্যাও খুব একটা বেশি নয়। যদি একজনের কাছেও আমরা পৌঁছাতে না-পারি, সেটাও আমরা গুরুত্ব দিতে চাই। যাদেরকে আমরা বিকল্প লেখাপড়ার মধ্যে আনতে পারিনি তাদেরও আনতে চাই। আমরা এজন্য গ্রাম-এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করতে চাই।

কেননা, ঢাকা শহরে যে ‘অ্যাকসেস’ (প্রবেশগম্যতা) আছে সেটা গ্রাম পর্যায়ে নেই। আবার সেখানে (গ্রামে) আরেকটা জিনিস আছে যেটা শহরাঞ্চলে নেই। সেটা হচ্ছে, সেখানে ঢাকার মতো করোনার সংক্রমণ নেই। এ জিনিসটা আমরা কাজে লাগাতে চাই। তাদেরকে আমরা একটা নেটওয়ার্কের মধ্যে আনতে চাই।

তিনি বলেন, করোনার কারণে কিছু অগ্রাধিকার তৈরি হয়েছে। আসন্ন বাজেটে এমন যেসব খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে শিক্ষাখাতও আছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে তাদেরকে (শিক্ষা মন্ত্রণালয়) বিষয়টি জানানো হয়েছে। সেই অনুযায়ী বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান দুটি খাতের একটি শিক্ষা। অপরটি স্বাস্থ্য।

স্বাস্থ্যখাতের ক্ষতি দেখা যায়; কিন্তু শিক্ষার ক্ষতি দেখা যায় না। এই ক্ষতি পোষাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। ইতোমধ্যে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরির কাজ আমরা শুরু করেছি।

অধ্যাপক মনজুর হোসেন আগামী জুন পর্যন্ত শিক্ষাবর্ষ প্রলম্বিত এবং সেপ্টেম্বরে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রস্তাব করে বলেন, ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য দু-তিন বছরের পরিকল্পনা করতে হবে। আর সারা দেশে একসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না-খুলে ধাপে ধাপে খুলতে হবে।

অ্যারোমা দত্ত বলেন, চলতি অর্থবছর যেসব প্রকল্পের অর্থ ব্যয় হয়নি সেই টাকা একত্র করে করোনায় শিক্ষার ক্ষতিপূরণে ব্যয় করা দরকার। অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ বলেন, করোনায় শুধু শিক্ষার্থীরা নয়; শিক্ষকরাও ট্রমার মধ্যে আছেন। অনেক শিক্ষক বেতন-ভাতা পান না।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, করোনার মহাসংকটে সারা পৃথিবীতেই পরিকল্পনা, কর্মসূচি এবং বাজেটে শিক্ষা গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের অগ্রাধিকার নির্ণয় করা দরকার।

মূল উপস্থাপনায় চলতি অর্থবছরের শিক্ষাখাতের (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়) সংশোধিত বাজেটে ১০ শতাংশ এবং নতুন বাজেটে ২০ শতাংশ বরাদ্দ করার সুপারিশ করে বলা হয়, বাজেট বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজেট ব্যয়ের সক্ষমতা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মোট ১১ সুপারিশের মধ্যে আরও আছে, শিক্ষা ডিজিটাইজেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে সেলফ লার্নিং উপকরণ পৌঁছানো; টিচিং ও লার্নিংয়ে উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি।