কুয়েত মৈত্রী হল ছাড়া ডাকসু নির্বাচনে ‘জালিয়াতি হয়নি’: ঢাবি উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি শুধু বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল সংসদ নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে। এ তথ্য জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, ডাকসু নির্বাচনে ‘কোনো জালিয়াতি হয়নি’।

ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় কুয়েত মৈত্রী হলের ওই সময়ের ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষ শবনম জাহানকে শাস্তি দিয়েছে প্রশাসন। শাস্তি হিসেবে তাকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনতি করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রথম যে কমিটি ছিল, তা ছিল ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এখন কমিটির রিপোর্ট ও সুপারিশের ভিত্তিতে তার পদাবনতি করেছে সিন্ডিকেট।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ অনিয়ম করে ছাড় পায় না, সিন্ডিকেট সেটাই প্রমাণ করল। পদাবনতি দিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তাকে।’

উপাচার্য আরও বলেন, তদন্তের প্রতিবেদনে অনিয়মের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে (শবনম জাহান) শাস্তি দেয়া হয়েছে। এছাড়াও এ ঘটনায় ওই হলের দু’জন হাউজ টিউটরকে সর্তক করা হয়েছে।

জানা যায়, ২৮ বছর পর গত বছর ১১ মার্চ ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন হয়। নির্বাচনের দিন সকালে কুয়েত মৈত্রী হলের একটি কক্ষ থেকে বস্তাভর্তি ভোট দেওয়া ব্যালট পেপার উদ্ধার হয়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে শবনম জাহানকে ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারপর ওই হলে ভোটগ্রহণ হয়।

পরে সিন্ডিকেটের এক সভায় শবনম জাহানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়াও তার বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছিল। এক বছরের বেশি সময়ের পর এ কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সোমবার তাকে শাস্তি দিল প্রশাসন।