কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস সকাল ৮টায়, অফিস খুলবে ৯টায়

বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রশাসনও সময়সূচি এগিয়ে নিয়ে এসেছে। তবে এমন সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক কাজে বিঘ্নতা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আমিরুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৮৫তম সভায় শিক্ষা কার্যক্রমের সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার পরিবর্তে এক ঘণ্টা এগিয়ে ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে।’

তবে অফিস কার্যক্রম চালুর সময় না এগিয়ে বরং ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত করা হয়েছে। এ নিয়েই বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য ঠিকই ক্লাস টাইম আট ঘণ্টা রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময় এক ঘণ্টা কমাতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী জানান, ‘সকাল ৮টায় ক্লাস করতে এসে দেখব ক্লাস রুম তালা দেওয়া আছে। ক্লাসের জন্য আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। এ রকম অদ্ভুত সিদ্ধান্ত প্রশাসন নিজেদের সুবিধার জন্য নিয়েছেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হোসাইন বলেন, ‘প্রশাসনের কমন সেন্সের অভাব। একবার এসি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেরাই এসি চালায়। আবার ক্লাস যখন শুরু হওয়ার কথা তখন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে আসা মাত্র শুরু করবেন। নিজেদের সুবিধা মতো সময় নিজেরা বেছে নিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা ৮টায় ক্লাস করতে পারলে তারা কেন ৮টায় অফিস করতে পারবেন না।’

এ ব্যাপারে কুবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দি বলেন, ‘এটা একটা সাধারণ সেন্সের বিষয় যে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বাস যদি ৯টায় আসে তাহলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে থাকবে নাকি বাইরে থাকবে? শিক্ষকদেরও ক্লাসের আগে আনুষঙ্গিক অনেক কাজ থাকে। কিসের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা আমি জানি না। তবে আমি মনে করি সিদ্ধান্তটা যদি আরেকটু বিবেচনা প্রসূত হতো তাহলে সবার জন্য ভালো হতো।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আমিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সিণ্ডিকেটের সিদ্ধান্ত এটি। ক্লাস পরীক্ষায় যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য বিষয়টি সমন্বয় করা হবে।’

এ ব্যাপারে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘অফিসের আগে ও পরে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ওভারটাইম দিতে হয়, ক্লাসরুম খোলার জন্য তারা আগে চলে আসবেন। বাসগুলো রি-শিডিউল করা হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক ঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে। আমাদের সিদ্ধান্ত কারো পক্ষে বিপক্ষে না।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন জানান, ‘সকালে ক্লাস শুরু হলে ফ্যান, লাইটের ব্যবহার কম হবে। ক্লাস-পরীক্ষার ব্যতিক্রম যাতে না ঘটে সেজন্য কর্মচারীরা আগে এসে খুলে দিয়ে যাবে।’