কানাডায় বঙ্গবন্ধুর স্মরণে বঙ্গবন্ধু সেন্টারের বৃত্তি ঘোষণা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর প্রক্কালে মেনিটোভাস্থ বঙ্গবন্ধু সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ ইন কানাডা বঙ্গবন্ধুর স্মরণে বিশেষ বৃত্তি ঘোষণা করতে যাচ্ছে।

অটোয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের হাই কমিশনার ড. খলিলুর রহমান ইত্তেফাককে অবগত করেন যে, শিগগিরই এ ব্যাপারে বিস্তারিত নিয়মাবলী www.bcbscanada.org ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানানো হবে।

আরও জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এবং শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ ইন কানাডা (বিসিবিএস) অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পাঁচটি বৃত্তি প্রদানের ঘোষণা দিয়ে আনন্দিত কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরে ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে যেকোনো সেশনে। এই স্কলারশিপের মধ্যে অন্তত দুটি ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পাঁচটি বিষয়ে বৃত্তি প্রদান করা হবে। বিষয়গুলো হচ্ছে- ক) বঙ্গবন্ধুর ‘শান্তি দর্শন’ এবং বিশ্বশান্তি গঠনে এর ভূমিকা ও তাৎপর্য,

খ) উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশ: সোনার বাংলা (সোনার বাংলা) বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে যাওয়া,

গ) বঙ্গবন্ধুর ‘স্বাস্থ্য দর্শন’ এবং বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে আজকের অগ্রগতি অর্জনে এর ভূমিকা,

ঘ) বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের রাজনীতিতে অবদান এবং বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণে এর গুরুত্ব,

ঙ) শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল: বাংলাদেশের আধুনিক খেলাধুলার স্থপতি।

অটোয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ দিকে অটোয়াস্থ বাংলাদেশস্থ দূতাবাসের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ভার্চুয়ালিভাবে পালিত হয়।

এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের শোকবার্তা পাঠ করে শোনানো হয়। পরে আলোচনায় অংশ নেন তোফায়েল আহমেদ, ফরাশউদ্দিন আহমদ, রবিউল আলম এবং হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান।

সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজের ড. কাওসার আহমেদ এই পর্ব পরিচালনা করেন আর সার্বিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন দূতাবাসের প্রথম সেক্রেটারি শামীমা সুলতানা।

বিজ্ঞ আলোচকবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর জীবন এবং আদর্শ নিয়ে স্মৃতিচারণ ও পর্যালোচনা করেন। কানাডায় বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরী সম্পর্কে হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান খোলামেলা আলোচনা করে বলেন, ‘কানাডা যখন নূর চৌধুরীকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বিগত সরকারের আমলে দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়েছিলো তখন সেই সময়ের নিয়োজিত হাই কমিশনার খন্দকার মোশতাকের দ্বিতীয় স্ত্রীর আগের ঘরের পুত্র এবং খুনিদের সহযোগী তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অসহযোগিতার কারণে নূরকে ফেরৎ পাঠানো সম্ভব হয়নি।’

পরেও যারা হাইকমিশনার হিসেবে এসেছেন-তারা তোষামদ, তেলবাজি, চাপাবাজি করে ভালো প্রমোশনসহ নানা ধরণের সুবিধে নিয়েছেন কিন্তু এ ব্যাপারে কাজ করেনি। এটা আওয়ামী লীগ সরকারেরও বিরাট ব্যর্থতা।

কারণ, যোগ্য এবং যথার্থ দক্ষ লোককে এখানে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

ইতিপূর্বেও এ ব্যাপারে ড. খলিল এই প্রতিবেদকের কাছে বলেছিলেন, আগের হাইকমিশনারেরা গত একুশ বছর ধরে খুনিকে ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে কার কী ভূমিকা ছিলো, তা সবাই জানে। তারা শুধু চাকরিই করে গেছেন।