কলেজে ভর্তি: শিক্ষার্থীর অজান্তে ভুয়া আবেদনের হিড়িক

অনলাইনে চলমান কলেজের একাদশ শ্রেণীর ভর্তি কার্যক্রমে ভুয়া আবেদনের হিড়িক পড়েছে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের অজান্তে অন্য কোন তৃতীয় পক্ষ এসব আবেদন করছেন। প্রতিদিন ঢাকাসহ অন্য বোর্ডগুলোতে এসব ভুয়া আবেদন বাতিল করতে ভিড় করছেন অসংখ্য ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা বোর্ডে আবেদন বাতিলের জন্য আলাদা বুথ খোলা হয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, দুই ধরনের প্রতিষ্ঠান— সংযুক্ত স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও এলাকাভিত্তিক কোচিং সেন্টার এসব অনৈতিক কাজগুলো করে। ব্যক্তিগত শিক্ষক, পরীক্ষার কেন্দ্র, ফটোকপি দোকান থেকে শিক্ষার্থীদের রোল, রেজিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের অজান্তে ভর্তির আবেদন করে রেখেছে।

এর মধ্যে স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে রয়েছে। দেখা যায়- স্কুলের মান ভালো; কিন্তু কলেজের মান ভালো নয়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীর সব তথ্য প্রতিষ্ঠানে থাকে। শিক্ষকরা সেসব তথ্য নিয়ে কলেজে ভর্তির আবেদন করেন। কিন্তু শিক্ষার্থী সেখানে ভর্তি হতে অনিচ্ছুক।

ভুক্তভোগী এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এসএসসি পরীক্ষার আগে সে যে কোচিং সেন্টারে ক্লাস করতেন সেখান থেকে তার রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বার চাওয়া হয়। পরে ওই শিক্ষার্থী দেখে ওই কোচিং সেন্টার তাকে না জানিয়ে কলেজে ভর্তির আবেদন করে রেখেছে।
যেসব কলেজকে পছন্দ দিয়েছে কোনটিই তার ভর্তি হওয়ার ইচ্ছে নেই। এখন তিনি ভর্তি আবেদন বাতিল করবেন।

জানা গেছে, প্রতিদিন ঢাকা বোর্ডে এরকম ভুয়া আবেদন বাতিল করতে ভিড় করছেন অসংখ্য ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। বোর্ড এসব আবেদন বাতিলের জন্য আলাদা বুথ খুলেছে। বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, বেশ কিছু কলেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। তারাই এসব আবেদন করে শিক্ষার্থী টানার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের প্রতারণা থেকে সাবধান থাকার অনুরোধ করা হয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড থেকে।

এছাড়া কোন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হলে বোর্ডের কন্ট্রোল রুমে ফোন করে সমাধান নিতে পারবেন। কিন্তু কন্ট্রোল রুমের ফোন সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকায় বাধ্য হয়ে বোর্ডে আসতে হচ্ছে তাদের। এতে করোনার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবককে।

ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক হারুন-অর-রশীদ বলেন, প্রতি বছর তৃতীয় পক্ষ এমন ভুয়া আবেদন করে থাকে। আমরা এদের বিরুদ্ধে সব সময় কঠোর অবস্থানে। গতবছর এরকম প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভুয়া আবেদনের অভিযোগ পেয়েছিলাম।

তিনি বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত ছয় শতাধিক আবেদন পেয়েছি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পেলে দ্রুত ভুয়া ভর্তির আবেদন বাতিল করে নতুন করে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বুয়েটকে চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। প্রথমে কোন ফোন নম্বর দিয়ে আবেদন করা হয়েছে সেটা চিহ্নিত করা হবে। অভিযুক্ত কলেজকে কারণ দর্শানে হবে। প্রয়োজনে পাঠদানের স্বীকৃতি স্থগিত করা হবে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ঢাকা বোর্ডে ৮ লাখ ৬৪ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন করেছে। এর মধ্যে অর্থ পরিশোধ করেছে তিন লাখ ৭৬ হাজার ৬৮০ জন। আর সারা দেশে ভর্তির আবেদন জমা পরেছে ১২ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৪টি।

এদিকে ঢাকা বোর্ডের বাইরে অন্যান্য বোর্ডেও চলছে শিক্ষার্থীর অজান্তে একাদশে ভর্তির আবেদন। চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে ৪৬টি কলেজের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক প্রদীপ চক্রবর্ত্তী বলেন, এবার একটি কলেজের বিরুদ্ধে একজন ছাত্র অভিযোগ পেয়ে খতিয়ে দেখছি। শিক্ষার্থীর অজান্তে অন্য কেউ যদি ভর্তির আবেদন করার অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা।

ইতিমধ্যে এ বিষয়ে নোটিশ দিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।