করোনা: সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে পরীক্ষা হবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে

করোনার কারণে প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চলতি বছর আর ক্লাস হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না অনেকে। এ অবস্থায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠার জন্য বিকল্প নানা উপায় কাজ করছেন সংশ্লিষ্ঠরা। এরমধ্যে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করাকেই বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর,শিক্ষা বোর্ড এবং এনসিটিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। তবে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ভিন্ন চিন্তাও আসতে পারে বলে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে পাবলিক পরীক্ষাগুলো আরও পিছিয়ে নেওয়া হবে। ফলে পিছিয়ে যাবে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সময়সীমাও।

জানা গেছে, এ পরিস্থিতিতে সিলেবাস কাটছাঁট করে মূল্যায়নের কথা ভাবছেন নীতিনির্ধারকেরা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্ত’র (মাউশি)মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, মাধ্যমিকে অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা নেওয়া গেলই না। সেপ্টেম্বরেও যদি স্কুল খুলে তখন ৫০ শতাংশ সিলেবাসের ভিত্তিতে পরীক্ষা নিয়ে মূল্যায়ন করা হতে পারে। তবে এগুলো পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে বলে তিনি জানান।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে। এই ছুটি ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই ছুটি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। প্রাথমিকে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা বাদ হয়ে গেছে। দ্বিতীয় সাময়িকী পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। মাধ্যমিকের অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষাও বাতিলের খাতায়। একাদশ শ্রেণির দ্বাদশ শ্রেণিতে উঠা আটকে গেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, সবকিছু নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির কেমন হয় তার ওপর। আগস্টেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ক্লাস হওয়ার সুযোগ কমে যাবে। তখন পরীক্ষা আদৌ নেওয়া যাবে কি না, তা বলা যাবে। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হলে কিছু ক্লাস করিয়ে তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা যাবে বলে তারা মনে করছেন।

এর কারণ হিসেবে টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাস প্রচারের কথা বলছেন তারা। তাদের দাবি, এতে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী পড়াশোনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছে। অবশ্য শিক্ষকদের অনেকে বলছেন, পরীক্ষা নিয়েই মূল্যায়ন করতে হলে মৌলিক কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, যতটুকু ক্লাস হয়েছে কিংবা বা ভবিষ্যতে যা নেওয়া সম্ভব হবে তার ওপর পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ের সাদৃশ্য আছে কেবল সেগুলোর মূল্যায়ন হতে পারে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, টেলিভিশনে চলা ক্লাসের ওপরই তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন। ৯০ শতাংশের ওপর শিক্ষার্থী এতে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত আছে। এ বিষয়ে কয়েকটি বিকল্প চিন্তাও করে রেখেছেন তারা। তবে সব নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর।

প্রাথমিকেও সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে মূল্যায়নের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ।

এদিকে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা এখন কবে হবে, তা ঠিক হয়নি। ফলে অনিশ্চয়তায় ১৩ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী। একাদশ শ্রেণির ভর্তিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলার ১৫-২০ দিন আগে শুরু হবে।