করোনা পরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন

করোনা পরবর্তী শিক্ষা ব্যবস্থা কী হবে, সেটি নিয়েও আমাদেরকে এখন থেকেই ভাবতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান। এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করার আহ্বান জানান তিনি। শনিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ গ্রুপ আয়োজিত ‘ইন দ্য পারসুট অব ইকোনমিক রিকোভারি: বাজেট ২০২১-২২’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

করোনাকালীন শিক্ষাব্যবস্থার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, আমরা এখন করোনাকালীন শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছি। পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। কিন্তু করোনা পরবর্তী শিক্ষা ব্যবস্থার কি পরিবর্তন হবে সেটা নিয়ে আমাদের এখন থেকেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে হবে। অসমতার সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে সমতার সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের রিডিস্ট্রিবিউট সিস্টেম প্রসারিত করা প্রয়োজন। এ কাজ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করতে হবে। আজকে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার সুবাদে একচেটিয়াভাবে একটি বড় শ্রেণি গড়ে উঠেছে। উচ্চ শ্রেণির মানুষের আয়ের মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষের অধিকার রয়েছে। এ জন্য রিডিস্ট্রিবিউশন জরুরি।

উপাচার্য বলেন, যে দেশটির সৃষ্টিতে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ঘটেছে, সে দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে, এটাই স্বাভাবিক। বরং আমাদেরকে যদি সামরিক শাসনের পথ পারি দিতে না হত, আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচিতে থাকতে পারতাম, তিনি যে শোষিতের গণতন্ত্রের কথা বলেছেন, সেটি করতে পারতাম, তাহলে মাত্র একদশকের মধ্যেই রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দর্শনে পৃথিবীর বুকে বিস্ময় হতো বাংলাদেশ।

আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর প্রফেসর ড. আতিউর রহমান বলেন, বর্তমানে সময়ে আমরা একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। নানামুখী সংকটের মধ্যেও আমাদের বাজেটের সবচেয়ে বড় দিক হচ্ছে কৃষি। কৃষি আমাদের বাাঁচিয়ে রেখেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি আমাদের এই সংকটকালেও বাঁচিয়ে রেখেছে। শহরের অনেকে গ্রামে চলে গেছে। গ্রাম কিন্তু তাদের ফেরত দেয়নি। নন-ফরমাল ইকোনমি গ্রামে বাড়ছে। সেখানে কর্মহীনরা যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু নগরে দারিদ্র বাড়ছে। একটি শক্তিশালি সামষ্টিক অর্থনীতি আছে বলেই আমরা টিকে আছি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন বৈষম্যের সঙ্গে বর্তমানে সাইবার পোভার্টি গ্যাপ তৈরি হচ্ছে। শহর আর গ্রামের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে আনতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজের জন্য লড়াই করেছেন বঙ্গবন্ধু। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে ঐক্যবদ্ধ জাতির বিকল্প নেই। বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখবো যেখানে বিভাজন নেই, সেখানেই উন্নয়ন। আমাদের জনশক্তি বাড়ছে কিন্তু কর্মসংস্থান হচ্ছে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ তারা কর্মমুখী শিক্ষার দিকে মনযোগ দিচ্ছেন। এটা খুবই জরুরি। কারণ কর্মসংস্থানের জন্য কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই।