করোনা জয়ী হয়েও না ফেরার দেশে সাংসদ ইসরাফিল আলম

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসকে জয় করেও পুনরায় অসুস্থ হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইসরাফিল আলম। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হযেছিলো ৫৪ বছর।

আজ সোমবার (২৭ জুলাই) ভোর ৭টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতা‌লের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ইসরা‌ফিল আলমের স্ত্রী সুলতানা পারভীন জানান, হাসপাতা‌লে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন এই সংসদ সদস্য। ক‌রোনা পজেটিভ হওয়ার ১৪ দিন পর পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছিল। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতা‌লে তাকে ভ‌র্তি করা হয় চল‌তি মা‌সের প্রথম সপ্তা‌হে।

সাংসদ ইসরাফিল আলম হৃদ্‌রোগ ও ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে গেছেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাংসদ ইসরাফিল আলম সম্প্রতি ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে প্রথম পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ এলেও পরে করোনা নেগেটিভ আসে। তিনি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে সরকারি বাসভবনে ফিরে যান। কিন্তু পরে আবারও তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চিকিৎসকেরা লাইফ সাপোর্টে রাখেন।

ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসরাফিল আলম আজীবন দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। ইসরাফিল আলমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

মো. ইসরাফিল আলম নওগাঁ-৬ আসনে দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছর পর ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মো. আলমগীর কবিরকে পরাজিত করে বিএনপির দুর্গ হিসেবে খ্যাত এই আসনটিতে বিজয়ী হন। ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইসরাফিল আলম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ১০ বছরে এই এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেন তিনি। সন্ত্রা‌সের জনপদ হিসে‌বে প‌রি‌চিত আত্রাই রাণীনগ‌রের সুস্থ জীবন ধারা ফি‌রে আনেন তি‌নি।

বর্তমান সংসদে ওই কমিটির পাশাপাশি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে ছিলেন ইসরাফিল আলম।