করোনা আক্রান্ত ১১ ফুটবলার, গাইডলাইন দাবি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের

করোনা পরীক্ষা করে ২৪ ফুটবলারের ১১ জনই পজিটিভ। শুরুর আগেই শঙ্কার মুখে জাতীয় দলের ক্যাম্প। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ দলের জন্য প্রয়োজন ছিল সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের বিশেষ গাইডলাইন। নেগেটিভ ফলাফল আসলেও সংস্পর্শে আসা সবাইকে কোয়ারেন্টিনে রাখা উচিত বলে মনে করেন খোদ বাফুফের মেডিকেল কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান। অব্যবস্থাপনার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বাফুফের, মন্তব্য সাবেকদের।

১৭ মে, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ মাঝপথেই বাতিলের সিদ্ধান্ত বাফুফের। তারপর থেকেই বুটজোড়া তোলা ছিলো দেশের ফুটবলারদের। জাতীয় দলতো মাঠের বাইরে আরও আগে থেকেই।

দেশের করোনার পরিস্থিতি এখনও লাগামহীন থাকলেও বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের পথ ধরেছে বাফুফে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে হবে ক্যাম্প। নেয়া হবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতি। কিন্তু গেলো ২ দিনে প্রাথমিক দলে ডাক পাওয়া ২৪ সদস্যের টেস্টের পর চক্ষু চড়ক গাছ। ১১ জনই কোভিড পজিটিভ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলছেন, এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধিই যথেষ্ট নয়।

প্রফেসর ডা. বে-নজীর বলেন, ‘বাফুফের একটা টিম থাকতে হবে যারা ইনফেকশন-প্রিভেনশন কন্ট্রোলে কাজ করবে। এছাড়া মনিটরিং করবেন ফুটবলারদের নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে।’

যারা নেগেটিভ হয়েছেন, তাদের এখন গাজীপুর সারা রিসোর্টে। এই ফুটবলাররাও যেনো আস্থা রাখতে পারছেন না একে অপরের প্রতিই। করোনা ঝুঁকির বাইরে কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত তারাও।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান ডা. আলী ইমরান বলেন, ‘অন্যদের কোভিড আক্রান্তের সম্ভাবনাটা উড়িয়ে দেয়া যায় না। যেহেতু সংস্পর্শে ছিলো তাই সংশয় কিছুটা থেকেই যায়।’

বাফুফে ফুটবলারদের স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারটি বিশেষভাবে দেখছে দাবি করলেও বাস্তবতায় মিল নাই। সাবেক জাতীয় দলের কোচের মতে, দায় এড়াতে পারেন না ফুটবলাররাও।

এ বিষয়ে সাবেক কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘দায়িত্ব ছিল আরো আগে ক্যাম্পটি শুরু করার। একমাস আগে যদি এই পরীক্ষা হতো তাহলে হয়তো এতদিনে সুস্থ হয়ে খেলার ধারায় ফিরে আসতে পারতো।’

এ নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেও বাফুফের কোনো কর্তা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি ।