করোনায় চিকিৎসকদের আবাসন ব্যবস্থা করবে সরকার

করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থকর্মীরা এতোদিন সরাকার নির্ধারিত হোটেলে অবস্থান করে কোয়ারেন্টাইন পালন করছিলেন। তবে তাদের আর হোটেলে অবস্থান করতে হবে না। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা করছে সরকার।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি পেলে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে ।

সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসিক হোটেলে থাকতে হবে না। রাজধানীতে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সরকার নির্ধারিত ছয়টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে থাকতে পারবেন। আর ঢাকার বাইরের চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করবেন।

সরকারি আবাসনের সুবিধা গ্রহণ না করলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ভাতা প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে ঢাকায় একজন চিকিৎসক দৈনিক ২ হাজার টাকা, নার্স ১ হাজার ২০০ টাকা এবং অন্যরা ৮০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। ঢাকার বাইরের চিকিৎসকেরা দৈনিক ১ হাজার ৮০০, নার্স ১ হাজার এবং অন্যরা পাবেন ৬৫০ টাকা করে ভাতা পাবেন। তবে এক মাসে ১৫ দিনের বেশি কেউ এ ভাতা পাবেন না।

ঢাকা মহানগরে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন হিসেবে ঠিক মন্ত্রণালয়। এগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) একাডেমি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজমেন্ট, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি, ন্যাশনাল একাডেমি অব এডুকেশনাল ম্যানেজমেন্ট, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস মহামারী চলাকালে গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ারেন্টিন খাতে মোট ১০৩ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বিরাট অংকের এই ব্যয়ের পরেও চিকিৎসকদের আবাসন সুবিধা না পাওয়ার অভিয়োগ পাওয়া যায়। এ নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা হয়।

দেশে করোনা ডেডিকেটেভ হাসপাতালগুলোতে ৫ হাজার ৭২৬ জন চিকিৎসক, ১০ হাজার ৪ জন নার্স, ৭ হাজার ৫১৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট ২৩ হাজার ২৮৫ জন কর্মরত আছেন। সবাইকে আবাসন ভাতার আওতায় আনা হলে সরকারের প্রতি মসে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।