করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে উল্লেথ করে ভবিষ্যতে যাতে আবার করোনার তৃতীয় ঢেউ চলে আসতে না পারে সে বিষয়ে এখন থেকেই সতর্ক থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকালে অনলাইন জুম অ্যাপের মাধ্যমে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২১ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দেশের মানুষকে নানা সংকটে ফেলেছে। সংক্রমণ অতিমাত্রায় বৃদ্ধির ফলে দেশে জরুরি লকডাউন চলছে। লকডাউন সংক্রান্ত সরকারের সকল নির্দেশনা সবাইকে যথাযথভাবে অনুসরন করতে হবে। একইসঙ্গে দেশে কেন ও কিভাবে করোনায় দ্বিতীয় ঢেউ এলো এবং এভাবে বৃদ্ধি পেলো সেটিও ভাবতে হবে। এখন দেশের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে আবার করোনার তৃতীয় ঢেউ চলে আসতে না পারে সেদিকেও এখন থেকে সতর্ক থাকতে হবে।’

সতর্ক না হলে বারবার হাসপাতালে বেড বাড়িয়ে লাভ হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই যে আমরা বেসামাল ঘোরাঘুরি করলাম, বিভিন্ন জায়গায় গেলাম, মাস্ক পরলাম না, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলাম না, যার ফলে আমাদের এই দ্বিতীয় ঢেউ আসলো। একই কাজ যদি আমরা আবার করি তাহলে তৃতীয় ঢেউ চলে আসবে। আমরা কত জনকে চিকিৎসা দেবো, কত বেড বাড়াবো, কত হাই ফ্লো ন্যাজেল ক্যানোলা দেবো, কতো অক্সিজেনের ব্যবস্থা করবো? হাসপাতালের বেড তো রাতারাতি বাড়ানো যায় না। আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

এ সময় খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ পুষ্টিকর খাবার পায়না। আমাদের দেশেও কিছু মানুষ পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে পারে না। এর মধ্যে দেশে পুষ্টিকর খাদ্যে ভেজাল বা কেমিক্যাল মিশানোর ফলে অনেক মানুষ সাধ্য থাকলেও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে পারেনা। বর্তমানে প্রায় সব ধরণের ফল-মূলেই বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশানো হচ্ছে যা স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে না পারলে কেমিক্যালযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে নিকট ভবিষ্যতে দেশের বহু মানুষ নানারকম জটিল রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হবেন। এ কারণে খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, এবারের পুষ্টি সপ্তাহের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বজায় রাখতে হবে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে সবার জন্য পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের স্বাস্থ্যখাতের সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ কারনে এই করোনাকালীন সময়েও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ঊর্দ্ধমূখী রয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় স্বাস্থ্যখাত সফল হবে।’

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম আবদুল আজিজ, জাতীয় পুষ্টি সেবার লাইন ডাইরেক্টর ডা. এসএম মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ।