করোনার অ্যাপে তথ্য চুরির অভিযোগ ভারতীয়দের

ভারতে করোনা ভাইরাস ট্র্যাকিং অ্যাপ আরোগ্য সেতু ডাউনলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোভিড নাইনটিন সংক্রমিত ১৯ টি জোনে এই আদেশ দেয়া হয়েছে।

৫০ বছর বয়সী রাজীব ঘোষও এই আদেশের বাইরে না। নয়াদিল্লীর নয়দার বাসিন্দা রাজীব ঘোষকে মে মাসে এই অ্যাপ ডাউনলোড না করার কারণে ১৫ ডলার জরিমানা বা ৬ মাসের জেল হতে পারতো। কিন্তু নিজের ব্যক্তিগত তথ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি অ্যাপটি ডাউনলোড করেননি। অ্যাপ ডাউনলোডের নির্দেশনা মে মাস পর্যন্ত বাধ্যতামূলক থাকায় বিপাকে পড়েছিলেন তার মতো অনেক ভারতীয় নাগরিক।

সমালোচকরা বলছেন, ভারতের তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না হওয়ায় লাখ লাখ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

দেশটির তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় তৈরি করেছে কোভিড নাইনটিন রোগী সনাক্তকারী এই অ্যাপটি। জুনের প্রথমদিকে ১২ কোটি বারের উপরে ডাউনলোড হয়েছে এই অ্যাপ। মহামারী মোকাবিলায় ব্যবহারের কথা থাকলেও এই অ্যাপ ব্লুটুথ আর জিপিএসের মাধ্যমেই অ্যাপ ব্যবহারকারীদের খুঁজে নিচ্ছে। ব্যবহারকারীদের নাম, ফোন নম্বর, বয়স, লিঙ্গ এবং গেলো ৩০ দিনে কোন দেশ ভ্রমণ করেছেন, সব তথ্য অ্যাপে দেয়া লাগছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যের অবস্থা, কোভিড নাইনটিনের কোন লক্ষণ আছে কিনা সব তথ্য অ্যাপে দেয়া লাগছে।

আরোগ্য সেতু প্রটোকল বলছে, কোভিড নাইনটিন মহামারী মোকাবিলা করা পর্যন্ত এই অ্যাপ ব্যবহার করা হবে। যেকোনো তথ্য পাওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে তা মুছে ফেলতে হবে।

কিন্তু অনেক ভারতীয় নাগরিকের দাবি, এ তথ্যের কোন নির্ভরযোগ্যতা পাওয়া যায়নি। কোন কোন আইনজীবীরা বলছেন, অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলা হচ্ছে, এটার প্রমাণ পাওয়ার কোন সুযোগ নেই৷

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই অ্যাপের সার্ভার কোড কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। নাগরিকদের কাছে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, বর্তমানে ভারতে কোন তথ্য সংরক্ষণ আইন নেই। একটি আইন ২০২১ সালে পাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

সমালোচকরা বলছেন, এ অবস্থায় ভারত সরকার নিজ দেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করার উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। গেলো বছর মোদি সরকার ভারতীয়দের নিবন্ধন আর ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য ৮৭টি বেসরকারি কোম্পানির কাছে ৬৫ কোটি রুপির বিনিময়ে বিক্রি করেছিলো বলে অভিযোগ আছে।

তবে ভারতের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বলছে, ৪৫ দিন পর ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলবে ওই অ্যাপ যদি করোনা পজিটিভ না হয় কোন ব্যক্তি। আর সুস্থ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে কোভিড নাইনটিন পজিটিভ ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলা হবে।