করোনামুক্ত হলেও যে কারণে বিদেশে নিতে চান খালেদা জিয়ার পরিবার

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার তৃতীয়বার করোনা টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে পরিবারের সদস্যরা। শনিবার (৮ মে) রাতে তার ফলাফল নেগেটিভ আসে বলে নিশ্চিত করেন খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক মো. আল মামুন। খালেদা জিয়ার করোনা নেগেটিভ আসার পরও চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিতে চান পরিবারের সদস্যরা।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম রোববার (৯ মে) সময়নিউজকে জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শেই বিদেশে চিকিৎসা করাতে চান তারা। তিনি বলেন, ‘যেহেতু তার ছেলে, ছেলের স্ত্রী, নাতনীসহ পরিবার রয়েছে লন্ডনে। এর আগেও তার চিকিৎসা সেখানে হয়েছে, তাই আমরা তাকে লন্ডনেই নিতে চাই।’

এর আগে, সরকারের অনুমতি পেলে চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন বা কীভাবে যাবেন সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

শনিবার (৮ মে) সময় সংবাদকে তিনি বলেন, আমরা সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় আছি। খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নেওয়ার সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা আছে। সরকারের অনুমতি পেলে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তিনি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নাকি চার্টার্ড ফ্লাইটে বিদেশ যাবেন।

এদিকে রোববার (৯ মে) সকালে আইন মন্ত্রণালয় খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার আবেদনের বিষয়ে মতামত দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা যাত্রা। তবে আইন মন্ত্রণালয় বেগম জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে কী মতামত দিয়েছেন, তা এখনো জানা যায়নি।

গত ৬ মে রাত ৮টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিদেশে চিকিৎসা করতে যাওয়ার আবেদনটি করেন বেগম জিয়ার ভাই শামীম ইস্কানদার। এরপর আবেদনটির আইনি দিক পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর তিন দিন পর রোববার (৯ মে) মতামত দিল আইন মন্ত্রণালয়। তবে, এখনো সরকারের গ্রিন সিগন্যাল মেলেনি।

এদিকে, এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেগম জিয়ার শারিরীক অবস্থা একটু ভালো বলে শনিবার জানিয়েছিলেন তার চিকিৎসকরা। তৃতীয় দফা টেস্টে তার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। করোনা আক্রান্ত ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ১২ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।