করোনাকালে সুখবর পাচ্ছেন এক লাখ নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী

করোনার কারণে প্রায় ১৪ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাঁদের আয় প্রায় বন্ধ হয়েছে। এবার তাদেরকে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় এক লাখেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারীকে এ সুবিধা দেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, প্রত্যেক নন-এমপিও শিক্ষক ঈদের পর পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা পাবেন। এছাড়া কর্মচারীরা পাবেন আড়াই হাজার টাকা করে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এ টাকা পাঠানো হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, দেশে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে সাড়ে সাত হাজার। করোনাকালে প্রতিষ্ঠানগুলোয় কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এজন্য তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তুরের নন-এমপিও ৮০ হাজার ৭৪৭ জন শিক্ষক পাঁচ হাজার টাকা করে পাবেন। আর আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন ২৫ হাজার ৩৮ জন কর্মচারী।

এ জন্য ৪৬ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। গত বছরও নন-এমপিও শিক্ষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ খাতে বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার। প্রকৃত শিক্ষক-কর্মচারীরাই যাতে এ সহায়তা পেতে পারেন সে জন্য বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (ব্যানবেইস) এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পরে তাদের ডাটাবেইসে থাকা আট হাজার ৪৯২টি স্কুল ও কলেজের ৮০ হাজার ৭৪৭ জন শিক্ষক এবং ২৫ হাজার ৩৮ জন কর্মচারীসহ এক লাখ পাঁচ হাজার ৭৮৫ জনের তালিকা মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়। সে তালিকা ধরেই এই নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। গত বছর চেক/ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হয়েছিল। এবার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে এ টাকা চলে যাবে।

এদিকে কারিগরি, মাদরাসা ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় কর্মরত নন-এমপিও ৫১ হাজার ২৬৬ জন শিক্ষকের জন্য আলাদা বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বর্তমানে দেশে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় সাড়ে সাত হাজার। আর স্বীকৃতির বাইরে রয়েছে দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। আর একাডেমিক স্বীকৃতির বাইরের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা এক লাখের বেশি।