কবে খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জানে না কেউ

করোনা সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব না কমায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৩ মে খোলার কথা রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এদিকে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় চলমান লকডাউন আরও এক দফায় বাড়িয়ে আগামী ২৩ মে করার কথা ভাবছে সরকার। এ অবস্থায় সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ীও প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

করোনার কারণে গত বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অটো পাস দেয় সরকার। আর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সব শ্রেণিতে অটো প্রমোশন দিয়ে পরবর্তী ক্লাসে উঠার ব্যবস্থা করা হয়। এবছরও নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হতে পারেনি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা। তবে এ বছর পরীক্ষার্থীদের অটো পাস দিতে চায় না সরকার।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্কুল-কলেজ খোলার পর সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এবারের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাদের পাঠ্যক্রম শেষ করার কথা রয়েছে।

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ৬০ দিন এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ৮৪ দিনের সংক্ষিপ্ত পাঠ্যক্রম প্রস্তুত করার কথা জানানো হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি চলতি বছরের জুনের শেষে এসএসসি এবং জুলাই-আগস্টে এইচএসসি পরীক্ষা হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে আগামী ২৩ মে থেকে স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণা আসে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমরা সব রেডি করে বসে আছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আমরা খুলব। স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত এখনও আগের মতোই আছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় খোলা যাবে কি না, তা ঠিক করতে গত ৫ মে বৈঠকে বসেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা।

বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতিতে কী করণীয় তা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন তারা। ফলে আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৭ মে আবাসিক হল খুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে উপস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আমাদের উপাচার্যদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এখন পর্যন্ত পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১৭ মে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ২৩ মে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল।