এ এক অনন্য লিভারপুল

তিন দশক পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতায় উৎসবের শহরে পরিনত হয়েছে লিভারপুল। লক ডাউন আর গণ জামায়েতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বাইরে বেরিয়ে আসে সমর্থকরা। নানা ঢংয়ে উদযাপন করে আনন্দের এই মুহুর্ত। আবেগে ভেসেছেন লিভারপুল কোচ ইয়র্গেন ক্লপও। এই জয়ের কৃতিত্ব গোটা দলের বলে জানান এই মাস্টার মাইন্ড।

এই উৎসব প্রায় ভুলতেই বসেছিলো লিভারপুল সমর্থকরা! আর কতই বা অপেক্ষা করা যায়! একে একে বিবর্ণ ৩০টি বসন্ত। একটা জেনারেশনের মাঝে প্রচন্ড ক্ষোভ আর হতাশা। হবে তো, না’কি অপেক্ষার প্রহর নিয়ে যাবে যুগ থেকে যুগান্তরে! অবশেষে প্রশান্তি।

এই ছয় লাইনে লুকিয়ে অল রেডদের তিন দশকের গল্প। সমর্থকদের চাপা আর্তনাদ। পাওয়ার আনন্দেও যে মানুষ আর্তনাদ করে। আবেগে ভাসে। বুক ফাটা চিৎকারে যা আকাশ ছুতে চায়। সেখানে আজ রঙ্গের বিচ্ছুরণ। টকটকে লাল রক্ত বর্ণ।

কেন এত আবেগ? একটা শিরোপার জন্য। কই শোকেসে তো অভাব নেই। গেল বছরই যে মাথায় পুরা হলো ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। এফএ কাপ, লিগ কাপ, কমিউনিটি শিল্ড, ক্লাব বিশ্বকাপ আরো কতো কি! তবও ছিলোনা একটা প্রিমিয়ার লিগ। আর তাই অর্জনের অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে কণ্ঠ রোধ হয়ে আসে।

এমন উৎসবের দিনেও আক্ষেপ গ্রাস করে সর্মকদের। একটা দুরত্ব। অ্যানফিল্ডের সঙ্গে অভিমান তৈরি হয়েছে। নীতি নির্ধারকরা মানা করে দিয়েছে মাঠে যেতে। মৃত্যু ভয় আছে ওখানে। কই উদযাপনে তো তার কোন রেশ নেই। সবাই আন্দে উদ্বেলিত হয়ে জানান দিচ্ছে মসনদ ফিরে পাওয়ার।

এ এক অনন্য লিভারপুল। পুরো মৌসুম জুড়েই তারা ছিলো অনন্য। আর তাই রেকর্ডের জন্ম। যেখানে বাকিরা দুর বহু দুর।