এসিপির শিক্ষক মনোনীত অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ

অ্যামেরিকান কলেজ অব ফিজিশিয়ান্সের (এসিপি) ফিসকাল ইয়ার ২০২০-২১ সালের জন্য নতুন শিক্ষক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ।

নানা গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে সম্পাদিত বাছাই প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে এ সম্মানার কথা ঘোষণা করে এসিপি। কলেজটির পরবর্তী মিটিংয়ে বিশ্বের অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে অনুষ্ঠেয় সম্মিলনে তাঁর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেবে কর্তৃপক্ষ।

যে মানদণ্ডে এ সম্মাননা

সূত্রে জানা গেছে, এসিপির মাস্টার হওয়ার কতগুলো সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। সারা পৃথিবী থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মধ্য হতে এসিপি তাদের মাস্টার বাছাই করেন। গবেষণা, শিক্ষকতা এবং সামাজিক, নাগরিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সরব ব্যক্তিদেরকে এ সম্মানের জন্য মনোনীত করা হয়, যারা সামগ্রিকভাবে মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, অতীতে গ্রিস ও রোমান সভ্যতায় যারা শিক্ষকতায় যুক্ত ছিলেন তারা সবার চোখে খুব সম্মানের পাত্র ছিলেন। সম্মাননার এ সংস্কৃতি ধরে রাখার লক্ষ্যে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের এ রকমভাবে প্রতি বছর মর্যাদায় ভূষিত করে এসিপি। বাৎসরিক মিটিংগুলোতে মনোনীত শিক্ষকদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এর আগে বাংলাদেশ থেকে এসিপির মাস্টার হিসেবে তিনজনকে মনোনীত করা হয়েছে। আমাকে চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে মনোনীত করেছে কলেজটি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর এ সংক্রান্ত একটি আবেদন পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা আমাকে মনোনীত করেছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দুইজন চিকিৎসকও ছিলেন। তবে তাদের কেউ এ সম্মাননার জন্য মনোনীত হননি। বাংলাদেশ থেকে শুধুমাত্র একজনকে মনোনীত করা হয়েছে।’

অনুভূতি জানতে চাইলে ঢামেক অধ্যক্ষ বলেন, ‘এটি আমাদের দেশের জন্য একটা বাড়তি সম্মানের, কারণ অ্যামেরিকা তাদের নিজেদের মানদণ্ডে বাংলাদেশকে এভাবে গ্রহণ করেছে। এটি আমার জন্য বিরাট সম্মানের, কারণ আমি এটার জন্য যোগ্য নই; আমার সমস্ত কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে আমাকে এ সম্মানের জন্য মনোনীত করেছে। এ মর্যাদা বাংলাদেশের সকল ইন্টার্ন চিকিৎসক, চিকিৎসক, করোনা যোদ্ধা এবং দেশবাসীর। এই কোভিডের সময় আমার এ সম্মানটুকু সবাইকে আমি উৎসর্গ করতে চাই।’

কখন আপনার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসিপির পরবর্তী মিটিংয়ে সশরীরে থেকে এটা গ্রহণ করতে হবে। যখন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হবে, তখন আমরা আমন্ত্রিত হয়ে সেখানে যাবো।’

অধ্যাপক আজাদের কর্মপরিধি

সামাজিক, সাংগঠনিক ও নাগরিক নানা কাজে যুক্ত থাকলেও অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ ইন্টার্নশিপ শুরুর সময় থেকে এখনো পর্যন্ত শিক্ষকতায় যুক্ত আছেন। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আলো ছড়ানো পরিশ্রমী এ মানুষটি শিক্ষকতাকেই নিজের প্রধান কাজ হিসেবে গণ্য করেন।

এছাড়া তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মেডিসিন বিভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি সুনামের সঙ্গে ঢামেক অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও পোস্ট গ্রাজুয়েট অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পোস্ট গ্রাজুয়েট অনুষদের দায়িত্ব এখনো চলমান আছে।

অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি), বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (বিএমআরসি) ও বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়নস এন্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) এক্সিকিউভ কমিটির সদস্য। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সিন্ডিকেট মেম্বার তিনি।

গবেষণা কর্ম

এছাড়া অধ্যাপক আজাদ বিভিন্ন জার্নাল প্রকাশ ও নানা গবেষণা কর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে চলমান প্রতিটি গবেষণায় সরব ভূমিকা রাখছেন তিনি।

আপাদমস্তক শিক্ষা ও গবেষণার মোড়কে শোভিত অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ২০১৮ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারী প্রফেসর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বর্ণাঢ্য শিক্ষা জীবন

অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ ১৯৮৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) থেকে এমবিবিএস পাস করেন। তিনি ছিলেন ঢামেক ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। একই বছরের ২৭ নভেম্বর ইন সার্ভিস ট্রেইনি হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি ১৯৯১ সালে মেডিসিন বিষয়ে এফসিপিএস ও ১৯৯৯ সালে এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন।