এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা কতটি বিষয়ে, জানাল শিক্ষা বোর্ড

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীকে তিনটি বিষয় বাদে বাকি বিষয়ের ওপর পরীক্ষা দিতে হবে। অন্যদিকে এইচএসসিতে একটি বিষয় বাদে বাকি বিষয়গুলোর ওপর পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ‘জরুরি বিজ্ঞপ্তি’ দিয়ে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

এর আগে গত রোববার শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সংগঠন ‘আন্তশিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানস কমিটির’ সভায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব করা হয়েছিল। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে এসব সিদ্ধান্ত জানাল শিক্ষা বোর্ড।

করোনা সংক্রমণের কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর গত বছরের শেষ দিকে ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসিতে শুধু গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। এ বছর সেগুলোর সঙ্গে বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ বেশির ভাগ বিষয়ের পরীক্ষা হবে।

এসএসসিতে যেসব বিষয়ে পরীক্ষা হবে না সেগুলো হলো—ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা; তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি; বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বিজ্ঞান (বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বিজ্ঞান বিভাগভেদে বিভাজন হয়)। ফলে বিভাগভেদে একজন শিক্ষার্থীকে এই চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে না। এই বিষয়গুলোর মূল্যায়ন হবে বিষয় ম্যাপিং করে।

এসএসসিতে যেসব বিষয়ে পরীক্ষা হবে সেগুলো হলো—বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উচ্চতর গণিত, জীববিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় উদ্যোগ, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ভূগোল ও পরিবেশ, পৌরনীতি ও নাগরিকতা, অর্থনীতি, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান এবং কৃষি শিক্ষা। বিভাগভেদে (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) এসব বিষয় বিভাজন হয়।

২০২২ সালের পুনর্বিন্যাস করা পাঠ্যসূচিতে হবে এসএসসি পরীক্ষা। যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা নেই, সেসব বিষয়ে ৫৫ নম্বরের (সৃজনশীল ৪০, এমসিকিউ ১৫) পরীক্ষা হবে। আর যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা আছে, সেসব বিষয়ে ৪৫ নম্বরের (সৃজনশীল ৩০, এমসিকিউ ১৫) পরীক্ষা হবে। তবে ইংরেজি প্রথম পত্রে ৫০ এবং দ্বিতীয়পত্রেও ৫০ নম্বরের ভিত্তিতে পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার সময় ও নম্বর বিভাজনের নির্দেশিকাও দেওয়া হয়েছে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে।

পরীক্ষা হবে দুই ঘণ্টায়। এর মধ্যে এমসিকিউ (বহু নির্বাচনী প্রশ্ন) অংশের সময় ২০ মিনিট এবং রচনামূলক বা সৃজনশীল অংশের সময় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। স্বাভাবিক সময়ে যেসব বিষয়ের ১০০ নম্বরের পরীক্ষা ৩ ঘণ্টায় হতো।

অন্যদিকে এইচএসসিতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বাদে বাংলা, ইংরেজি, গ্রুপভিত্তিক নৈর্বাচনিক তিনটি বিষয় এবং একটি ঐচ্ছিক বিষয়ের ওপর পরীক্ষা হবে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ের মূল্যায়ন হবে ‘বিষয় ম্যাপিং’ করে।

স্বাভাবিক সময়ে এসএসসিতে বিভিন্ন বিষয়ে ১২টি পত্রে ও এইচএসসিতে বিভিন্ন বিষয়ে ১৩টি পত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এইচএসসিতে যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা আছে, সেসব বিষয়ে ৪৫ নম্বরে এবং যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা নেই, সেসব বিষয়ে ৫৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে। তবে বাংলা দ্বিতীয় পত্রে ৫০, ইংরেজি প্রথম পত্রে ৫০ ও দ্বিতীয়পত্রে ৫০ নম্বরের ভিত্তিতে পরীক্ষা হবে। এইচএসসিতেও পরীক্ষা হবে দুই ঘণ্টায়।

করোনা মহামারির কারণে এসএসসি ও এইচএসসির পুরো শিক্ষাপঞ্জি এলোমেলো হয়ে গেছে। করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছিল সরকার। এ কারণে ক্লাসের সঙ্গে পরীক্ষাও পিছিয়ে যায় বা বাতিল করতে হয়েছে। দীর্ঘ ১৮ মাস পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছিল। কিন্তু নতুন করে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২১ জানুয়ারি আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। এই ছুটি শেষে ২২ ফেব্রুয়ারি আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও করোনার অভিঘাতের কারণে এ বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সাধারণত ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হলেও এখন আগামী ১৯ জুন এসএসসি এবং ২২ আগস্ট এইচএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করা হয়েছে।