এসএসসিতে ফল বিপর্যয়ের পেছনে প্রাইভেট বাণিজ্য

গত ৩১ মে ২০২০ সালের এসএসসির ফল প্রকাশিত হয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮২ দশমিক ৩২ ভাগ। কিন্তু গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে পাস করে মাত্র ৫৪ দশমিক ৬৯ ভাগ। ফল বিপর্যয়ের কারণ উদ্ঘাটন করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে- সাধারণ গণিত ও ইংরেজি শিক্ষকরা অতিমাত্রায় প্রাইভেট বাণিজ্যে জড়িত থাকায় এএসসির ফল বিপর্যয় ঘটেছে।

কাশিয়ানীতে ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের কারণ-বিষয়ক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাফুজা বেগম সোমবার দুপুরে ইউএনও সাব্বির আহমেদের কাছে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।

সম্প্রতি উপজেলার ফল বিপর্যয়ে ৩৭টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও নির্বাচনী পরীক্ষার খাতা তলব করেন ইউএনও । পরে ফল বিপর্যয়ের কারণ উদ্ঘাটন করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাফুজা বেগমকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

তদন্তের পর ফল বিপর্যয়ের পেছনের কারণ সম্পর্কে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাফুজা বেগম বলেন, বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অযোগ্য শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ গণিত ও ইংরেজি শিক্ষকরা অতিমাত্রায় প্রাইভেট বাণিজ্যে জড়িত থাকায় শ্রেণিতে পাঠদানে আন্তরিক নন। এ ছাড়া অভিভাবকদের উদাসীনতায় শিক্ষার্থীরা পাড়াশোনায় মনোযোগী না হয়ে স্মার্ট ফোনে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এসব কারণে ফল বিপর্যয় ঘটেছে।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান, প্রাইভেট বাণিজ্য ফল বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।

জানা গেছে, উপজেলার ৩৭টি স্কুলের তিন হাজার ২১০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে পাস করেছে এক হাজার ৭৫৪ জন। এছাড়া ১৯টি স্কুল নির্বাচনী পরীক্ষায় গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে ফেল করা ৬৩৭ শিক্ষার্থীকে এসএসসির ফরম পূরণের সুযোগ দেয়। এর মধ্যে ৪৫৩ জন এসএসসিতে ফেল করেছে।

তদন্তে আরও জানা যায়, এসব বিদ্যালয় থেকে নির্বাচনী পরীক্ষায় পাস করা ২৬১ শিক্ষার্থীও এসএসসিতে ফেল করেছে। এসএসসিতে কাশিয়ানীর শিক্ষার্থীরা সাধারণ গণিত ও ইংরেজির দুই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে।

কাশিয়ানীর ইউএনও সাব্বির আহমেদ বলেন, এসএসসির ফল বিপর্যয়ের কারণ সংবলিত তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা কর্মকর্তা আমার কাছে জমা দিয়েছেন। এ উপজেলার শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাবো।

এলাকার শিক্ষকরা বলেন, এ বছর উপজেলায় এসএসসির ফল বিপর্যয় ঘটেছে। গণিতেই বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আরও যত্নশীল হতে হবে।