এমন উইকেটে বাউন্ডারি হাঁকানো মুখের কথা নয়: প্রিন্স

সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সিরিজে শের-ই বাংলার স্লো উইকেটে খাবি খেয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেখানে ছোটার কথা রানের ফোয়ারা সেখানে ছিল একের পর এক ডট বল আর উইকেটের মহোৎসব। বাউন্ডারি কিংবা ওভার বাউন্ডারির দেখা মিলেছে কিঞ্চিত

শুধু অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরাই নন ভুগেছের হোম অব ক্রিকেটের ঘরের ছেলেরাও। বাংলাদেশ দলের সদ্য নিযুক্ত ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স তখন দক্ষিণ আফ্রিকা থাকলেও ইতিমধ্যে জেনে গেছেন এই উইকেটের চরিত্র। ব্যাটসম্যানদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ানো তার এক কথায়ই এটি স্পষ্ট।

‘অস্ট্রেলিয়া সিরিজে কন্ডিশন ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন ছিল। এমন উইকেটে অনেক বেশি বাউন্ডারি হাঁকানো মুখের কথা নয়’- নিউ জিল্যান্ড সিরিজকে কেন্দ্র করে চলমান অনুশীলনের দ্বিতীয় দিন শনিবার (২৮ আগস্ট) প্রিন্স এমন মন্তব্য করেন।

প্রিন্সের এমন মন্তব্যের পেছনে কারণও আছে বটে। কিছু পরিসংখ্যানে চোখ বুলালে তা আরও গাড় হবে। ৫ ম্যাচের এই সিরিজে ওভার প্রতি রান হয়ে ৫.৮৫ করে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অন্তত ১০০ ওভার হয়েছে এমন ৯৬টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে এটি সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড। প্রতি ১৪.৭৩ রানে পড়েছে ১টি করে উইকেট; এই ৯৬টি সিরিজে যা দ্বিতীয়। ৫ ম্যাচের এই সিরিজে চার হয়েছে মাত্র ৬৫টি, আর ছয় ২৯টি। ১০টির বেশি চার মেরেছেন মাত্র দুজন; মিচেল মার্শ ১২টি, সাকিব আল হাসান ১২টি। আর সর্বোচ্চ ৫টি ছয় মেরেছেন ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ান।

অস্ট্রেলিয়ার মতো নিউ জিল্যান্ড সিরিজেও একই উইকেট হবে বলে মনে করেন প্রিন্স। তাই ঐ সিরিজের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে কিউইদের বিপক্ষেই মাঠে নামতে হবে বলে মনে করেন এই ব্যাটিং পরামর্শক। ইতিমধ্যে উইকেট নিয়ে শিষ্যদের সঙ্গে কাজ শুরু করে দিয়েছেন; চালিয়ে যাচ্ছেন আলোচনা। আর মুশফিকুর রহিম-লিটন দাস যুক্ত হওয়ায় এই কন্ডিশনে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করেন প্রিন্স।

তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড সিরিজে হয়ত অনেকটা একই উইকেট থাকবে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের শিক্ষা কাজে লাগাতে হবে। গতকাল ছেলেদের সাথে আমি কথা বলেছি। লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম অস্ট্রেলিয়া সিরিজে খেলেননি, তাদের সাথে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নেওয়া হচ্ছে। যদিও এই কন্ডিশনে তারা অনেক অভিজ্ঞ। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের কোন কোন জায়গায় নিউজিল্যান্ড সিরিজে উন্নতি করতে হবে এসব নিয়ে কথা হচ্ছে।’

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ওপেনিং জুটির সমস্যা ছিল প্রকট। সর্বোচ্চ ৪২ রান এসেছিল পঞ্চম ম্যাচে। বাকি ৪ ম্যাচে ওপেনিং জুটি থেকে আসে যথাক্রমে ১৫, ৯, ৩, ও ২৪ রান। প্রথম চার ম্যাচ ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন নাঈম শেখ-সৌম্য সরকার। আর সবশেষ ম্যাচে সৌম্যর জায়গায় আসেন শেখ মেহেদী হাসান। তবে প্রিন্স চিন্তিত নয় শুরুতেই উইকেট হারানো নিয়ে।

‘ওপেনারদের নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো উদ্বেগ নেই। জিম্বাবুয়েতে ২-১টি ভালো পার্টনারশিপ হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে কন্ডিশন ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন ছিল। ওপেনিং পজিশন নিয়ে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। লিটনের মত ওপেনার দলে ফিরছে। দলের জন্য এমন প্রতিযোগিতা খুব ভালো।’

লিটন দাস দলে ফেরায় কিউইদের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নিঃসন্দেহে পরিবর্তন আসবে। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি ছিলেন না। দলের ওপেনার পরিবর্তন হবে কিন্তু ওপেনিংয়ের সমস্যা কি সমাধান হবে? যেটা বলে দেবে সময়।