এমআইটির অধ্যাপক হলেন লিসা পুরনো গণিতের সমাধান করে

যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের একজন ছাত্রী তার অবসর সময়ে ৫০ বছর পুরনো একটি গাণিতিক সমস্যার সমাধান এক সপ্তাহের কম সময়ে করেছেন। তার সমাধানটি একটি গণিত জার্নালে প্রকাশিত হয়। বিষয়টি ম্যাসাচুসেটস ইন্স্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) নজরে আসলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়টির সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

লিসা পিচিরিলো টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেট করার সময় ‘কনওয়ে নট’ বা কনওয়ের গিঁট সমস্যার সমাধান করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গ্রামীণ রাজ্য মাইনে জন্মগ্রহণ করেন লিসা পিচিরিলো এবং তিনি বস্টন কলেজে পড়ালেখা করেন। ২০১৩ সালে স্নাতক পর্যায়ের ছাত্রী থাকার সময় তিনি ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন থেকে বৃত্তি পান তিনি।

বৈজ্ঞানিক খবরের ওয়েবসাইট কোয়ান্টাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পিচিরিলো জানান, সমস্যাটি সমাধান করে সেটি সম্পর্কে খুবই স্বাভাবিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গণিতবিদ ক্যামেরন গর্ডনের সাথে আলোচনা করছিলেন তিনি।

কনওয়ে নট সমস্যা ১৯৭০ সালে ব্রিটিশ গণিতবিদ জন হর্টন কনওয়ে উত্থাপন করেন। তবে মিজ পিচিরিলো ২০১৮ সালে প্রথমবার এই সমস্যার কথা জানতে পারেন।

অধ্যাপক গর্ডন বলেন, ‘আমার মনে হয় পিচিরিলো কত পুরনো, স্বীকৃত এবং বিখ্যাত একটি সমস্যার সমাধান করেছে, সেসম্পর্কে তিনি জানেন না’।

এই বছরের শুরুর দিকে গণিত জার্নাল অ্যানালস অব ম্যাথমেটিকসে মিজ পিচিরিলোর সমস্যাটি প্রকাশিত হয় এবং সমস্যাটি সমাধানের পরই তাকে ম্যাসাচুসেটস ইন্স্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

স্পেনের ইনস্টিটিউট অব ম্যাথমেটিকাল সায়েন্সেসের সদস্য ও গবেষক হ্যাভিয়ের আরামায়োনা বলেন, ‘কনওয়ে নট সমস্যা দীর্ঘসময় ধরে সমাধান করা হয়নি এবং বহু প্রথিতযশা গণিতবিদ এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।’

কোয়ান্টা ম্যাগাজিনকে মিজ পিচিরিলো বলেন, আমি দিনের বেলায় ওই সমস্যার পেছনে সময় দেইনি, কারণ এটিকে আমি আসল গাণিতিক সমস্যা হিসেবে বিবেচনাই করিনি। আমি এটিকে হোমওয়ার্কের মত মনে করেছি। তাই যখন বাসায় ছিলাম, তখনই এটা নিয়ে কাজ করেছি।