এবার যেসব ‘প্রতিশ্রুতি’ দিলেন কাজী সালাউদ্দিন

ঘোষণা করা হয়েছে কাজী সালাউদ্দিন নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদের নির্বাচনী ইশতেহার। জাতীয় দলের পাশাপাশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে ঘরোয়া ফুটবল ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প।

নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে এক মঞ্চে ফুটবলের কর্তা ব্যক্তিরা। ভোট যুদ্ধে জয়ী হলে আগামী চার বছরের জন্য ফুটবল অভিভাবকত্ব যাবে তাদের কাছে। এমন গুরুদায়িত্বে তারা কতটা প্রস্তুত তারই ফিরিস্তি চার পৃষ্ঠার কাগজে।

কাজী সালাউদ্দিন নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদের ইশতেহারে এবার ৩৬ পয়েন্ট। সবার উপরে জাতীয় দল। তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি। গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তলানীতে থাকা র‌্যাঙ্কিং’র উন্নয়নসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজনে।

কাজী সালাউদ্দিনের আগামী নির্বাচনের ইশতেহারে কি কি থাকছে? কিংবা ৪র্থ দফায় কি কি প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হচ্ছেন আবারো? ইশতেহারে উল্লেখিত বিষয়াদির চুম্বকাংশে চোখ বুলানো যাক।

সালাউদ্দিন-সালাম পরিষদের এবারের ইশতেহারে সবার উপরে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে জাতীয় ফুটবল দলকে। তাদের অঙ্গীকার, জাতীয় দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রনয়ন করা হবে। প্রতিবছর আয়োজন করা হবে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট। এর আগে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, এবার সেখান থেকে সরে এসেছেন কাজী সালাউদ্দিন।

তিনি বলছেন, নির্বাচিত হলে সাফ ও এসএ গেমসের শিরোপা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে তার প্যানেল।

২০২৪ সালের মধ্যে ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশকে ১৫০ এর কাছাকাছি এবং নারী দলকে ৯০ এর কাছাকাছি উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করবে সালাউদ্দিন প্যানেল। এছাড়া জাতীয় দলের জন্য হাইপ্রোফাইল কোচ নিয়োগসহ নানাবিদ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিচ্ছে সালাউদ্দিন-সালাম প্যানেল।

ইশতেহারে ঘরোয়া ফুটবল নিয়েও বিশদ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সম্মিলিত পরিষদ। তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী, ঘরোয়া ফুটবলের ক্যালেন্ডার প্রনয়ন করে নিয়মিত ফুটবল খেলা, লিগ ও প্রতিযোগিতাগুলো আয়োজন করা হবে। প্রতিবছর সুনির্দিষ্ট তারিখে খেলোয়াড় দলবদলের আশ্বাসও দিচ্ছে এই প্যানেল। দলবদলকে ডিজিটালাইজ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে সম্মিলিত পরিষদ। এছাড়া লিগের ফরম্যাটে প্রতিবছর জেলা ফুটবল লিগগুলো বছরের নির্দিষ্ট সময়ে আয়োজনের সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।

নারী ফুটবলের উন্নয়নে বাফুফে ভবনের ক্যাম্পটিকে ৪ তারকা হোটেলের সমমানে উন্নীত করণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছে তারা। এছাড়া আগামী বছরের মধ্যে বাফুফে ভবনে একটি আধুনিক মানের জিম প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এই প্যানেল।

দেশের প্রতিটি বিভাগে পর্যায়ক্রমে ফুটবল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া প্রতি মাসে দেশের একটি জেলায় ২ দিনব্যাপী ফুটবল ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তারা। প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগ ফুটবল লিগে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোকে পর্যায়ক্রমে ক্লাব লাইসেন্সিং সিস্টেমের আওতাভুক্ত করা হবে।

মহিলা ফুটবল নিয়েও নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে এই প্যানেলটি। তারা বলছে, আগামীতে মহিলা ফুটবলের ক্যালেন্ডার করে সে অনুযায়ী লিগ ও প্রতিযোগিতাগুলো আয়োজন করা হবে। বয়সভিত্তিক দলগুলোর সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শক্তিশালী জাতীয় মহিলা ফুটবল দল গঠন করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এই পরিষদ। এছাড়া নারী দলের জন্য হাইপ্রোফাইল কোচিং স্টাফ নিয়োগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তারা।

উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে আগামীতে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল স্টেডিয়ামের সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে সালাউদ্দিন-সালাম প্যানেল। দেশের নুন্যতম ৪টি স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে বলেও জানিয়েছে তারা। এছাড়াও দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা ব্যক্তিগত ও বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত একাডেমিগুলোকে বাফুফের অধীনে এনে তাদেরকে টেকনিক্যাল সহযোগিতা দেয়া হবে বলে আশ্বাস দিচ্ছে কাজী সালাউদ্দিনের প্যানেল।

সবমিলিয়ে ৪ পৃষ্ঠার ইশতেহারে এমন হাজারো আশ্বাসের ফুলঝুরি। তবে বাস্তবায়ন হবে কতোটা সেটা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়! কারণ আগের তিন দফায়ও যে এমন নানা প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসবাণী নিয়ে হাজির হয়েছিল এই প্যানেল!