এবার করোনাভাইরাস নিয়ে যৌথ গবেষণায় ইসরায়েল-আমিরাত

কঠোর সমালোচনার মধ্যেই এবার করোনাভাইরাস গবেষণায় পরস্পরকে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল। আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএমের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।

গত সপ্তাহে দুই দেশ তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয়ার পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলো।

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার একটি যন্ত্র উদ্ভাবনে একসঙ্গে কাজ করবে আমিরাতের কোম্পানি অ্যাপেক্স ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট এবং ইসরায়েলের টেরাগ্রুপ।

কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর দুই দেশের মধ্যে টেলিফোন যোগাযোগ চালু করা হয়েছে। এর আগে আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলে ফোন করা সম্ভব ছিলো না।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের স্বাধীনতা ঘোষণার পর ইহুদি রাষ্ট্রটির সঙ্গে তৃতীয় দেশ হিসেবে চুক্তি করে আরব আমিরাত। এর আগে ১৯৭৯ সালে মিসর এবং ১৯৯৪ সালে জর্ডান চুক্তি করেছিল।

এই চুক্তি অনুযায়ী আগামী কয়েক সপ্তাহে ইসরায়েল ও আমিরাতের প্রতিনিধিরা বিনিয়োগ, পর্যটন, সরাসরি বিমান চলাচল, নিরাপত্তা, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং একে অপরের দেশে দূতাবাস স্থাপন নিয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করবেন।

গত বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইল নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে একটি ‘ঐতিহাসিক চুক্তিতে’ সম্মত হওয়ার কথা জানায়। ফিলিস্তিনিরা তাত্ক্ষণিকভাবে একে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অ্যাখ্যা দেয়। তারা আরব লীগ ও অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনকে (ওআইসি) চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিতেও আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষণকে ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় আরব অঞ্চলের অন্যান্য দেশও একই পথে হাঁটবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে তারা।