এবার ঈদের ছুটিতে কি বাড়ি ফিরতে পারবেন?

ঈদের ছুটিসহ রাজধানীসহ শহরবাসী মানুষের গ্রামে ফেরা ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। তবে চলতি বছর সে নিয়মে বাধ সেধেছে করোনাভাইরাস মহামারি। গত ঈদুল ফিতরে গণপরিবহণ বন্ধ থাকার পাশাপাশি চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে অনেকে বাড়ি ফিরতে পারেননি।

তবে গত ঈদে ব্যক্তিগত গাড়িতে অনেকে বাড়ি ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩১ জুলাই কিংবা ১ আগস্ট দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। এছাড়া করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলেও কড়াকড়ি অবস্থা থেকে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে জীবনযাত্রা। সেজন্য কোরবানির ঈদের সময় বাড়িতে ফিরতে পারবেন কি না, তা এখন মানুষের জানতে চাওয়া।

জানা গেছে, এ পরিস্থিতিতে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা যাবে কি-না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ পর্যন্ত সরকারের অবস্থান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যে কোনো স্থানে চলাচল করতে পারবে মানুষ। তবে ঈদের সময় বিধি-নিষেধ থাকবে কি-না তা ঈদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

অনেকে বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহণ চলাচল করলেও ঈদের সময় অব্যাহত থাকলে করোনা সংক্রমণের বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একসঙ্গে অনেক মানুষ চলাচল করায় স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হবে না, সরকারও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘আপাতত বলছি, বর্তমানে অফিস ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড যেভাবে চলছে, ৩ আগস্ট পর্যন্ত সেভাবেই চলবে। কোরবানির সময় মানুষের বাড়ি ফেরার বিষয়ে আপাতত প্রজ্ঞাপনে নেই। কোরবানির সময় বাড়ি ফিরতে পারবে কি না, কিংবা কোন প্রক্রিয়ায় পারবে তা ঈদের আগে জানানো হবে।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান সাংবাদিকদেরকে এ বিষয়ে বলেন, ‘মানুষ যদি সচেতন থাকে তবে ঝুঁকি কম। মানুষকে তো আটকানো যায় না, কোনো দেশই তা পারেনি। তবে প্রত্যেকে সচেতন হলে নিরাপদ থাকা যাবে। সচেতন থাকলে মুভ করলেও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না ‘

তিনি বলেন, ‘ঈদে বাড়ি ফেরার বিষয়ে কিছু নির্দেশনা থাকলেও ঈদের আগে জানিয়ে দেওয়া হবে। আমরা প্রত্যেককে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলছি। নিজেকে বাঁচানোর জন্য যদি সচেতন না হয় তবে কবে সচেতন হবে? সচেতনতাই এখন একমাত্র বাঁচার উপায়।’

করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর কয়েক দফায় ছুটি বাড়িয়ে সর্বশেষ গত ৩০ মে শেষ হয়। পরে ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে অফিস খুলে দেওয়া হয়, চালু হয়েছে গণপরিবহণ। পরে বাড়ানো হয়েছে, বহাল থাকবে ৩ আগস্ট পর্যন্ত।