এবারও কী এসএসসি-এইচএসসিতে ‘অটো পাস’?

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশে চলছে লকডাউন। মাহামারী এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে না আসায় চলমান বিধিনিষেধ এই আরও এক সপ্তাহ (২৯ এপ্রিল-৫ মে) বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। আজ সোমবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ অবস্থায় আগামী জুনে চলতি বছরের এসএসসি এবং জুলাই-আগস্টে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্ত:শিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সূত্র বলছে, করোনাভাইরাসের পরিস্থিতির ওপর সবকিছু নির্ভর করছে। তবে এখন পর্যন্ত সরকার পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে।

সূত্র জানায়, সংক্ষিপ্ত সিলেবাস সম্পন্ন করেই পরীক্ষা দুটি নেওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুকূলে না আসলে বছরের শেষ দিকে হলেও দুটি পাবলিক পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আগামী ২৩ মে যদি স্কুল-কলেজ খোলা যায়, তাহলে সেপ্টেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন করা যেতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ৩০ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করে পরবর্তী দুই সপ্তাহ পর এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এসএসসি ও সমমানের জন্য ৬০ দিন এবং এইচএসসি ও সমমানের জন্য ৮৪ দিনে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শেষ করতে হবে। এরপর দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে দুই পরীক্ষাই নেওয়া হবে। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ গত বছরের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানো হয় আগামী ২২ মে পর্যন্ত।

সর্বশেষ ছুটির ঘোষণা অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে আগামী ২৩ মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ৬০ দিনের সিলেবাস শেষ করতে সময় যাবে আগামী ২৩ জুলাই। এরপর দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে পরীক্ষার রুটিন ঘোষণা করা হলেও আগস্ট মাসে পরীক্ষা নিতে হবে। একইভাবে এইচএসসি পরীক্ষাও পিছিয়ে যাবে।

কিন্তু এরইমধ্যে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এর বিস্তার রোধে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। বিদ্যমান পরিস্থিতি অনুযায়ী জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. কাজী তারিকুল ইসলাম বলেন, আমার মনে হয় আগামী তিন মাসের আগে হয়তো করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্থিতিশীল অবস্থায় আসবে না।

করোনা নিয়ন্ত্রণে না এলে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব না মানা গেলে এর বিস্তার বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া আদৌ সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য প্রশ্নপত্র ছাপাসহ অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। লকডাউনের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের কেউ বাকি থাকলে লকডাউনের পর তা সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু এতোসব প্রস্তুতি নেওয়ার পরও এ বছর পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত সপ্তাহে ‘করোনাকালীন শিক্ষা’ নিয়ে আয়োজিত দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের এক লাইভ অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, গত বছর এইচএসসি পরীক্ষার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। পরীক্ষার মাত্র পাঁচদিন আগে সেটি স্থগিত করা হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তখন অটোপাস ছাড়া বিকল্প কিছু ছিল না। তবে যারা এবছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেবে তাদের গত এক বছর ধরে কন্টিনিউ এসেসমেন্ট চলছে। তাদের জন্য আমরা পরিকল্পনা করেছি। পরীক্ষা নিয়েই তাদের রেজাল্ট দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ৬০ কর্মদিবস এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ৮০ কর্মদিবসের একটি পরিকল্পনা করেছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখনই খোলা হবে তখন থেকেই তাদের সশরীরে ক্লাস করানো হবে। পরীক্ষা নিয়েই তাদের রেজাল্ট দেয়া হবে।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখনই খোলা হোক না কেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ক্লাস করিয়েই এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নিবো। এক্ষেত্রে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ৬০ দিন ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ৮৪ দিন ক্লাস করানো হবে।

চলতি মাসের শুরুতে আন্ত:শিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নেহাল আহমেদ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেছিলেন, শিক্ষামন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সে অনুযায়ী আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো হয়েছে। ২৩ মে যদি স্কুল-কলেজ খোলা যায়, তাহলে সেপ্টেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন করা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, গত বছর ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ওই বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় তা বড়িয়ে আগামী ২২ মে পর্যন্ত প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়।