এক বিষয়ে ফেল, দ্বিতীয় বিভাগে দশম হয়েও শিক্ষক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী উপাচার্য এম আবদুস সোবহান গত ৬ মে অবৈধভাবে ১১ জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গেছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের নাম ইন্দ্রনীল মিশ্র। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ইন্দ্রনীল মিশ্র অনার্সে (স্নাতক) প্রথম বিভাগে পাস তো করেনইনি, যে ১৪ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় বিভাগ পেয়েছিলেন সেখানেও তাঁর অবস্থান দশম। আবার তিনি সম্মান শ্রেণির একটি কোর্সে অকৃতকার্যও হয়েছিলেন।

ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান এমদাদুল হক প্রথম আলোকে ইন্দ্রনীল মিশ্রের পরীক্ষার খারাপ ফলাফলের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলছেন, তাঁরা শিক্ষক নিয়োগের জন্য গত তিন বছর আগে যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন, তার শর্ত অনুযায়ী ইন্দ্রনীলের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা নেই।

আর বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেজিস্ট্রার আবদুস সালাম বলেন, কোনো একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও পরে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হলে এবং বিজ্ঞাপিত পদের যোগ্যতা থাকলে তিনি শিক্ষক হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে অকৃতকার্য হওয়া একজন ছাত্রের জন্য ভালো নয়।

খোঁজ নিয়ে ইন্দ্রনীল মিশ্রের পরীক্ষার ফলাফল শিটে দেখা গেছে, ইন্দ্রনীল মিশ্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১০ সালের মাস্টার্স পরীক্ষা ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, তিনি প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁর অবস্থান পঞ্চম। তাঁর ২০০৯ সালের সম্মান পরীক্ষা ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত হয়। এই পরীক্ষায় তিনি দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁর অবস্থান দশম। এই ফলাফলে দেখা যায়, সম্মান শ্রেণির ৪০৩ নম্বর কোর্সে তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ইন্দ্রনীল মিশ্রের বাবা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মিশ্রকে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাঁর ছেলের ফোন নম্বর না পাওয়ায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ইন্দ্রনীল মিশ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।