ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে মাত্র একটি দেশকে পাশে পেলো যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের ওপর বৈশ্বিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের তোলা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে। প্রস্তাবের ওপর অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে চরম মার খেয়ে মার্কিন কূটনীতি। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া মাত্র একটি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটিতে শুধু ক্যারিবীয় দ্বীপ রাষ্ট্র ডোমিনিকান রিপাবলিক সম্মতি দেয়। ইরানের ওপর বৈশ্বিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার জন্য ৯টি দেশের ভোটের প্রয়োজন ছিল।

করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে শুক্রবার রাতে অনলাইনে নিরাপত্তা পরিষদের ওই বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের মধ্যে এদিন ১১টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং জার্মানি ছিল না।

এছাড়া তেহরানের ওপর আরোপিত সমস্ত নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে নিতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি এক সম্মেলনের আহ্বান জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

ইরানবিরোধী প্রস্তাব পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের। কিন্তু আজ এ দায়িত্ব পালনে পরিষদ ব্যর্থ হয়েছে এবং এর কোনও ব্যাখ্যা থাকতে পারে না।

২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতায় বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে তেহরানের ওপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র আরও দুই বছর আগে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছে। দেশটি ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা নবায়নের জন্য তৎপরতা চালিয়ে আসছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় নিরাপত্তা পরিষদে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করে তারা। শুক্রবার তার ওপর অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ১১ দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে; আর প্রস্তাবের পক্ষে ও বিপক্ষে ভোট পড়েছে দু’টি করে। আমেরিকা ও ডোমিনিকান রিপাবলিক প্রস্তাবটির পক্ষে এবং চীন ও রাশিয়া এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। বাকি কোনও দেশ ভোটাভুটিতে অংশ নেয়নি।

এ বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ঝেং জুন এক বিবৃতিতে জানান, একতরফাবাদ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়, আর এভাবেই তাদের শাসন ব্যর্থ হবে।