ইরানকে মোকাবিলায় সৌদি-ইসরাইল বন্ধুত্বের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানকে মোকাবিলায় ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা এবং হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার বলেন, দু’পক্ষের স্বাভাবিক সম্পর্ক সৌদি আরবের বাণিজ্য এবং নিরাপত্তাখাত শক্তিশালী করবে।

সোমবার তিনি বলেন, আমিরাতের মতো ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করলে সৌদি আরব লাভবান হবে।

টেলিফোন ব্রিফিংয়ে কুশনার বলেন, ইসরাইল- সৌদি সম্পর্ক তাদের উভয়ের শত্রু ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবকে দুর্বল করতে সহায়তা করবে। চূড়ান্তভাবে লাভবান করবে ফিলিস্তিনিদের। বলেন, এটি সৌদি আরবের জন্য খুবই ভালো হবে। সৌদির নিরাপত্তার জন্য ভালো হবে। স্পষ্টভাবে বললে, ইসরাইল- সৌদি চুক্তি ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

সৌদি আরব, আরব বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। বৃহস্পতিবার আমিরাত-ইসরাইল স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ঘোষণার বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি রিয়াদ। আবুধাবি-রিয়াদ খুবই ঘনিষ্ঠ মিত্র। ইসরাইলও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আমিরাত-ইসরাইল চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিমতীরে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাতিলে রাজি হয়েছে তেল আবিব। যদিও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহেু বলেছেন, সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা এখনো আলোচনার টেবিলে আছে।

কুশনার বলেন, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এবং তার পুত্র ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা বহুবার ব্যক্ত করেছেন। তারা মূলত বলেছেন, তারা ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র দেখতে চান। যে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হবে।

কুশনার, ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ডিল অব সেঞ্চুরির রূপকার। তার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনকারী তৃতীয় আরব রাষ্ট্র আমিরাত। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রথম। আবুধাবির এ সিদ্ধান্ত পশ্চিমাপন্থী উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উৎসাহী করছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরাইল-আমিরাতের প্রতিনিধিরা হোয়াইট হাউসে নিজেদের মধ্যেকার চুক্তি সই করবেন।

উভয়ের শত্রু ইরান

বাহরাইন এবং ওমান, আমিরাত-ইসরাইল পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। এখনো মন্তব্য করেনি সৌদি আরব, কুয়েত এবং কাতার। ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার আগে মক্কা, মদীনার ভূমি সৌদি আরবকে স্পর্শকতার রাজনৈতিক হিসেব-নিকেষ করতে হচ্ছে।

কুশনার বলেন, নিরাপত্তা এবং আর্থিকখাত বিবেচনায় অনেক রাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী হচ্ছে। উপসাগরীয় অনেক রাষ্ট্র তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে চায়।

ইসরাইল এবং আমিরাতের মতো সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে বিচ্ছিন্ন করে শাসন করার ইরানি নীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সৌদি আরব-ইসরাইল, উভয়ের শত্রু ইরান। অধিকাংশ উপসাগরীয় দেশ তেহরানের বিরুদ্ধে ওই অঞ্চলে বিদ্রোহীদের সহায়তার অভিযোগ তুলেছে। বলেন কুশনার।

তিনি বলেন, আপনি যদি বলেন, ইসরাইল-সৌদি আরবের মধ্যে শান্তি চুক্তি কে চায় না? আমি বলবো, একমাত্র রাষ্ট্র ইরান যারা দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক হোক তা চায় না। এখন অবশ্যই রিয়াদ-তেল আবিবকে সঠিক কাজটি করতে হবে।

গেলো সপ্তাহে ইসরাইল-আমিরাত চুক্তিকে বৃহত্তর ভুল আখ্যা দেন ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তাদের চুক্তির প্রতিবাদে ইসরাইল বিরোধী আঞ্চলিক শক্তি আরো জোরদার হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।

সোমবার মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীৗর কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল জিম ম্যালোয় বলেন, আমিরাত-ইসরাইল চুক্তির কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়বে বলে বিশ্বাস করি না। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত প্রবণ একটি অঞ্চল। এখানে মিত্রদের একসঙ্গে কাজ করতে হয়।