আমিরাতে ব্যবসায় সফল বাংলাদেশী নারী উদ্যোক্তা লেফটেন্যান্ট (অব.) গুলশান আরা

ছালাহউদ্দিন, আরব আমিরাত থেকে : জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ঠিক রেখে অদম্য ইচ্ছা, মনোবল, সততা আর কঠোর পরিশ্রমে এগুলে অল্প সময়ে একজন নারীও কতখানি সফলতা অর্জন করতে পারেন এমন সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে আরব আমিরাতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশ ও প্রবাসীদের মুখ উজ্জ্বল করেছেন বাংলাদেশী নারী উদ্যোক্তা লেফটেন্যান্ট (অব.) গুলশান আরা।

২০১১ সাল থেকে শুরু করা এই নারী উদ্যোক্তার বর্তমানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১টি। তার গ্রুপ অফ কোম্পানির নাম আইদিন বুটিকস। তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লোকের সংখ্যাও ২ শতাধিক।

গুলশান আরা বলেন, ২০০২ সালে সেনাবাহিনীতে অংশগ্রহণ করার পর ২০০৭ সালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন তিনি। এরপর দেশে গ্রুপ ফোর সিকিউরিটি সার্ভিসেস-এর ডিপুটি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালের শেষের দিকে ওই কোম্পানির রিজিওনাল এইচ আর ম্যানেজার হিসেবে প্রমোশন পেয়ে ১৮টি দেশের দায়িত্ব নিয়ে আরব আমিরাতে আসেন।

তিনি বলেন, ছোটকাল থেকেই নিজেকে একজন নারী হিসেবে নয় বরং একজন মানুষ হিসেবে ভাবতেন। সাধ্য না থাকলেও স্বপ্ন ছিল প্রচুর। তবে ফ্যাশন ডিজাইনের প্রতি প্রচুর আগ্রহ থাকায় এবং আমিরাতে এর বেশ চাহিদার বিবেচনায় নিপুণ কর্মশৈলী নামি-দামি তৈরি পোশাক, ব্যাগ ও জুতাসহ ফ্যাশন সংশ্লিষ্ট নানা রকম পণ্যের ব্যবসায় এগিয়ে আসেন। ক’বছর চাকরি করার পাশাপাশি পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজ প্রচেষ্টায় ব্যবসায়ী চ্যালেঞ্জকে সফল করতে থাকেন। চিন্তা করলেন এ ব্যবসাকে কীভাবে আরো ব্যাপকভাবে প্রসার করা যায়।

এরপর ২০১৩ সালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে তার এই চ্যালেঞ্জিং পেশার ব্যবসায় নিজেকে পুরোপুরিভাবে নিয়োজিত করেন। বর্তমানে তার আইদিন বুটিকস্্ প্রতিষ্ঠানের আধুনিক ডিজাইনের রুচিশীল হরেক রকম পণ্য আমিরাতে দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে আমিরাতের নামকরা প্রতিষ্ঠান কেরিফোর, ইউনিয়ন কো-অপারেটিভ, আবুধাবী কো-অপারেটিভ ও হাইপার পান্ডাসহ নামি-দামি বিভিন্ন মার্কেটে তার প্রতিষ্ঠানের পণ্য ব্যাপকভাবে সরবরাহ করা হয় বলেও জানান সফল এই বাংলাদেশী নারী উদ্যোক্তা।

লেফটেন্যান্ট (অব.) গুলশান আরা ব্যবসার পাশাপাশি একজন সফল সংগঠকও। প্রবাসী বাংলাদেশী বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন তিনি। তার বাড়ি শরিয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলায়। বাবার নাম কাজী মোহাম্মদ সিরাজ। গুলশান আরা একজন নারী হয়েও বিদেশের মাটিতে সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে ব্যবসা সাফল্যে বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশ এবং প্রবাসীদের আরো ব্যাপক সম্মান বৃদ্ধি করায় প্রবাসীরাও এখন তাকে দেখছেন বাংলাদেশের একজন গর্বিত নারী হিসেবে।