আফগানিস্তানে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র: ইমরান খান

যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক সমাধান চাওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, অনেকের মতো আমিও বলে আসছিলাম, সেখানে কোনো সামরিক সমাধান আসবে না। যারা আফগানিস্তানের ইতিহাস জানেন, তাদের সবারই মত এ রকম। কিন্তু আমাদের আমেরিকাবিরোধী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এমনকি তালেবান খান নামেও ডাকা হয়েছে।

আমেরিকার সংবাদ অনুষ্ঠান পিবিএস নিউজআওয়ারে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) রাতে এটি সম্প্রচার করা হয়েছে।
আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রথমে সেখানে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর দুর্বল অবস্থানে থাকা অবস্থায় তালেবানের সঙ্গে রাজনৈতিক সুরাহার চেষ্টা করেছে তারা।
ইমরান খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে একটি সামরিক সমাধান চেয়েছে। কিন্তু তা কখনই সম্ভব ছিল না। যারা আফগানিস্তানের ইতিহাস জানেন, তারা তা ভালোভাবেই বোঝেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যখন বুঝতে পেরেছে—তারা কোনো সামরিক সমাধানে আসতে পারছে না, দুর্ভাগ্যবশত, তখন আমেরিকানদের কিংবা ন্যাটোর দেনদরবারের ক্ষমতাও শেষ হয়ে গেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক আগেই একটি রাজনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নেওয়া উচিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। যখন সেখানে দেড় লাখের মতো ন্যাটো সেনা ছিল। কিন্তু যখন তারা সেনা কমিয়ে ১০ হাজারে নিয়ে এসেছে, দেশটি থেকে বের হয়ে যাওয়ার তারিখ ঘোষণা করেছে, তখন তালেবানের মনে হয়েছে তারা জয়ী হয়েছে।

এ অবস্থায় তাদের আপসে নিয়ে আসা বেশ কঠিন ছিল বলে মন্তব্য করেন ক্রিকেটের সাবেক এই কিংবদন্তি। সংবাদ অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক জুডি উডরুফ তাকে প্রশ্ন করেন যে তালেবানের পুনরুত্থানকে তিনি ইতিবাচক দেখছেন কিনা। জবাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আফগানিস্তানে রাজনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে ভালো হবে। আর তা হতে হবে অংশগ্রহণমূলক।
আর অবশ্যই তালেবানকে আফগান সরকারের অংশ হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি দেখা দেবে উল্লেখ করে ইমরান খান বলেন, এতে প্রতিবেশী হিসেবে পাকিস্তানকে দুটি খারাপ অবস্থার মোকাবিলা করতে হবে। তার একটি হচ্ছে, শরণার্থী সংকট।
ইতিমধ্যে ত্রিশ লাখ আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে পাকিস্তান। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে সেই সংখ্যাটা আরও বাড়বে বলে মনে করেন ইমরান খান।
দ্বিতীয় সমস্যাটির কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, আফগানিস্তানে সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের ধাক্কা পাকিস্তানেও লাগতে পারে। নৃতাত্ত্বিকভাবে তালেবান পশতু। যদি এই গৃহযুদ্ধ কিংবা সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তবে আমাদের এখানের পশতুরাও তাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।