আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের ১৪ বছর

২০০৬ সালের ৬ আগস্ট। বাংলাদেশের ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া ছেলেটি একদিন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের জায়গা দখল করবে, এমনটা কি কেউ ভেবেছিল? এমন ভাবাটা হয়তো নেহাত অমূলক। সবেমাত্র জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া কাউকে নিয়ে এমন মন্তব্য করারও তো যৌক্তিকতা থাকতে হবে। কিন্তু সেই ছেলেটিই এই অসাধ্য সাধন করেছেন। বিশ্বের বুকে লাল-সবুজের পতাকাকে উঁচিয়ে ধরেছেন সগৌরবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছেন মর্যাদার আসনে। তিনি আর কেউ নন, সাকিব আল হাসান।

সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অভিষেকের দিন আজ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আজকের দিনে রঙিন পোশাকে মাঠে নেমেছিলেন সাকিব। আর এরপরের গল্প তো সবারই জানা। প্রথম ম্যাচেই আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন এই বাঁহাতি। নিজেকে চেনাতে সময় নেননি সাকিব। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের মাত্র তিন বছরের মধ্যেই ওয়ানডে অলরাউন্ডারের শীর্ষস্থান দখল করেন। এখানেই থেমে থাকেননি, ক্রিকেটের তিন ফরমেটেই শীর্ষ জায়গাটা নিজের করে নিয়েছিলেন। যা করতে পারেননি বিশ্বের অন্য কোন ক্রিকেটার।

শুধু কি দেশের, গোটা ক্রিকেট দুনিয়ার অন্যতম সেরা একজন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। গেল ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সাকিবের পারফরমেন্স ছিল ঈর্ষনীয়। ব্যাট হাতে একাই লড়ে গেছেন টাইগারদের পক্ষে। করেছেন আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬০৬ রান। বল হাতেও কোনো অংশে পিছিয়ে নন সাকিব। ঘুর্নিজাদুতে এক ম্যাচে ৫ উইকেটসহ মোট ১১ উইকেট নেন তিনি।

গেল ১৪ বছর ধরে নিয়মিত পারফরমেন্স করে নিজেকে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। অফ ফর্ম কি জিনিস? তা হয়তো জানেনই না সাকিব। কেননা ফর্মহীনতায় দল থেকে কখনোই বাদ পড়তে হয়নি তাকে।

লম্বা এই ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত টেস্ট খেলেছেন ৫৬টি। ৫ সেঞ্চুরি ও ২৪ হাফ সেঞ্চুরিতে সাকিবের রান ৩৮৬২। আর ব্যাটিং গড় ৩৯.৪১। বল হাতে নিয়েছেন ২১০ উইকেট। ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেয়েছেন ১৮ বার ও ১০ উইকেট নিয়েছেন দুইবার।

ওয়ানডেতে ২০৬ ম্যাচ খেলে রান করেছেন ৬৩২৩ রান। সেঞ্চুরি ৯ সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি ৪৭টি। একদিনের ক্রিকেটে বল হাতেও সফল এই বাঁহাতি। তার মোট শিকার ২৬০ উইকেট। ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন দুইবার। এছাড়া টি-টোয়েন্টিতে ৭৬ ম্যাচ খেলে ১৫৬৭ রানের পাশাপাশি ৯২ উইকেট দখল করেছেন তিনি।

অধিনায়ক হিসেবেও রেখেছেন অন্যতম ভূমিকা। দেশের হয়ে ১৩ টেস্টের অধিনায়কত্ব করে জয় পেয়েছেন ৩টিতে। ৫০ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে জিতিয়েছেন ২৩টি ম্যাচে। এছাড়া ১৭ টি টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব করে ৪ ম্যাচে জয়ের দেখা পেয়েছেন সাকিব।