আধা মিনিটেই ক্ষতস্থান জুড়ে দেবে সাপের বিষ!

বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর সাপের দংশনে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান। সাপের মুখে থাকা প্রাণঘাতী বিষের কারণেই এই মৃত্যু ঘটে। আবার সেই সাপের বিষ থেকেই তৈরি হয় জীবন রক্ষাকারী এন্টিভেনমসহ নানা রকমের ওষুধ।

এবার সাপের বিষ থেকে রক্তপড়া বন্ধ করা এক ধরনের আঠা তৈরি করেছেন কানাডা ও চীনের একদল বিজ্ঞানী। এই আঠা লাগালে মাত্র আধামিনিটেই জুড়ে যাবে ক্ষতস্থান।

বিজ্ঞানীদের দাবি, বর্তমানে অস্ত্রোপচারের সময় সার্জনরা যে আঠা ব‌্যবহার করেন সেটি রক্তপাত বন্ধ করতে ৫/৬ মিনিট সময় নেয়। কিন্তু সাপের বিষ থেকে তৈরি এই ‘সুপার গ্লু’ একই কাজ করতে সময় নেয় ৩৪ থেকে ৪৫ সেকেন্ড!

বিজ্ঞানীদের অভূতপূর্ব এই আবিষ্কারের গবেষণাপত্র ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকার ল‌্যানসেড স্নেক (Lansed Snake) এর বিষে রেপটিলেজ নামক উৎসেচক বা এনজাইম রয়েছে।

এটি সহজেই রক্তের ফাইব্রিনোজেন প্রোটিনকে ভেঙে সুতোর আকারে ফাইব্রিন প্রোটিন তৈরি করে, যা মশারির জালের মতো কাজ করে রক্তকণিকা আটকে দেয়। ফলে দ্রুত রক্ত জমাট বাঁধে।

গবেষণাপত্রে বলা হয়, এই আঠা মাত্র ৩৪ সেকেন্ডে ইঁদুরের একটি কাটা লেজ জুড়ে দিয়েছে। লিভারের দু’টো অংশ জুড়তে সময় নিয়েছে মাত্র ৪৫ সেকেন্ড।

তবে এই আঠা সরাসরি কাজ করে না। এটি ক্ষতস্থানে লাগিয়ে টর্চের আলো ফেললে ক্ষত জায়গায় জিটালিন ক্রস লিংকিংয়ের জন‌্য চাদর তৈরি হবে এবং রেফটিলেজ এনজাইমের উপস্থিতিতে ফ্রাইব্রিন তৈরি হয়ে রক্তকণিকার প্রবাহ আটকে দেবে। ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যাবে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, বর্তমানে সার্জারিতে রক্ত বন্ধ করতে ব্যবহৃত হয় এমন সব আঠাগুলো বেশিরভাগই পলিইথিলিন গ্লাইকল এবং সায়ানো এক্রিলেটসের মতো কৃত্রিম রাসায়নিক দিয়ে তৈরি। এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশিও প্রয়োগ করা যায় না। এ ছাড়া অনেক সময় প্রয়োগস্থানে প্রবল জ্বালা-যন্ত্রণাও হয়। আবার বেশি রক্তপাত ঠেকাতে এই আঠা খুব বেশি কার্যকর নয়। কিন্তু এই আঠার ক্ষেত্রে এসব সীমাবদ্ধতা এখনও পাওয়া যায়নি।

এই সুপার গ্লু প্রাথমিক চিকিৎসাতেও গেম চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, চূড়ান্তভাবে এই আঠা অনুমোদন দেওয়ার আগে দীর্ঘ ট্রায়ালের প্রয়োজন রয়েছে।