The Rising Campus
News Media
বৃহস্পতিবার, ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

আজ ৫৩তম সমাবর্তন: ১৯২৩ সালে প্রথম, পিছনে ফিরে দেখা

আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তন। এ সমাবর্তনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ৩০ হাজার ৩৪৮ জন গ্র্যাজুয়েটকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি প্রদান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠসহ মোট তিনটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে এই সমাবর্তন। আলাদা ভেন্যুতে হবে সাত কলেজের সমাবর্তন। সমাবর্তনে অংশ নিতে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বাধিক সংখ্যক গ্র্যাজুয়েট রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন।

বিগত বছরগুলোর তুলনায় বেড়েছে পদকও। এবার ১৫৩টি স্বর্ণপদক দেওয়া হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকের বিভিন্ন কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এসব স্বর্ণপদক দেওয়া হবে বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তাছাড়া সমাবর্তনে ৯৭ জনকে পিএইচডি, ২ জনকে ডিবিএ এবং ৩৫ জনকে এমফিল ডিগ্রি দেওয়া হবে।

১৯২৩ সালে প্রথম: দেশের বিশ্ববিদ্যালসমূহের মধ্যে সমাবর্তন প্রথম শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের হাত ধরে। সমাবর্তনে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাস বেশ উজ্জ্বল। ৯৬ বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ব্রিটিশ আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম নিয়মিত সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। আজকের (সোমবার) মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৫২ বার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে।

১৯২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম নিয়মিত সমাবর্তনে বাংলার তৎকালীন গভর্নর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর লর্ড লিটন (রোনাল্ডশে সিআইই) সমাবর্তন ভাষণ দেন। এরপর ১৯২৪ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই (সর্বমোট ২৪ বার) সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ আমলে শেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালের ২১ নভেম্বর।

পাকিস্তান আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ। ২৪ মার্চের সেই সমাবর্তনে কার্জন হলে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠার দাবিকে নাকচ করে দিয়ে জঘন্যতম ভাষণ দিয়েছিলেন তার প্রতিবাদে সমাবর্তন স্থলেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং ছাত্ররা দাঁড়িয়ে নো নো বলে তীব্র প্রতিবাদ করেন, তারই ধারাবাহিকতায় পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলন আরো বেশি গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। ১৯৫২ সালের সমাবর্তনের তারিখ নির্দিষ্ট ছিল ২৪ ফেব্রুয়ারি কিন্তু মহান ২১ ফেব্রুয়ারির ঐ ঘটনায় আর হতে পারেনি। সে বছর ১৭ ডিসেম্বর সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মোট ১৫ বার সমাবর্তন হয়।

১৯৬৪ সালের সমাবর্তন ছিল এক পণ্ডময় সমাবর্তন, তখনকার তত্কালীন উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক ড. এম ওসমান গনি ও চ্যান্সেলর আবদুল মোনায়েম খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সেবারই প্রথম কোন সমাবর্তনে চ্যান্সেলর ও ভাইস চ্যান্সেলর উভয়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন। কিন্তু মোনায়েম খানের কাছ থেকে ডিগ্রি নিতে ছাত্র-ছাত্রীরা অস্বীকার করলে এই সমাবর্তন পণ্ড হয়ে যায়। পাকিস্তান আমলে সর্বশেষ সমাবর্তন হয় ১৯৭০ সালে ৮ মার্চ; সেটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯তম সমাবর্তন।

স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো (৪০তম) সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে সমাবর্তন উদ্বোধন করার কথা ছিল; কিন্তু তার আগেই ভোররাতে ঘটে যায় সেই নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড, ১৫ আগস্ট ট্র্যাজেডি ফলে তখন সমাবর্তন স্থগিত করা হয়।

এরপর স্বাধীন বংলাদেশে প্রথম সমাবর্তন (৪০তম) অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর যা ছিল দীর্ঘ ২৯ বছর বিরতির পর। এরপর সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০০১, ২০০৪, ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯, ২০১২, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সব থেকে বৃহত্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের মার্চ মাসে (৪৭তম), প্রধান বক্তা ছিলেন ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন-এর মহাসচিব প্যাসকেল ল্যামি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৩ সালে। এটিও সমাবর্তন ইতিহাসের এক অনবদ্য সংযোজন, সমাবর্তনের প্রধান বক্তা ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রথমবারের মত প্রথম সম্পূর্ণ বাংলায় সমাবর্তন ভাষণ দিয়েছিলেন।

২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল ৪৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (সার্ন)-এর মহাপরিচালক অধ্যাপক রোল্ফ হুয়ের।তাকে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ৪৯তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তা ছিলেন জেনেভাভিত্তিক মেধাস্বত্ব সংগঠন ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক ফ্রান্সিস গ্যারি। ২০১৭ সালের ৪ মার্চ ৫০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৭ হাজার ৮৭৫ জন গ্র্যাজুয়েট অংশগ্রহণ করেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারিও’র প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক অমিত চাকমা। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাকে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবর্তনে ২১ হাজার ১১১ জনকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছিল। এই সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এই সমাবর্তনে বক্তা হিসেবে জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

সর্বশেষ, ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাবির ৫২ তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সমাবর্তনে মোট ২০ হাজার ৭৯৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। শিক্ষা ও গবেষণা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৭৯ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে ৯৬টি স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। ৫২তম সমাবর্তনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত জাপানের নোবেল বিজয়ী পদার্থবিদ রয়েছেন ড. তাকাকি কাজিতা। তাকে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করেন মো. আবদুল হামিদ।

1
You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.

  1. হোম
  2. ক্যাম্পাস
  3. আজ ৫৩তম সমাবর্তন: ১৯২৩ সালে প্রথম, পিছনে ফিরে দেখা

আজ ৫৩তম সমাবর্তন: ১৯২৩ সালে প্রথম, পিছনে ফিরে দেখা

আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তন। এ সমাবর্তনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ৩০ হাজার ৩৪৮ জন গ্র্যাজুয়েটকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি প্রদান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠসহ মোট তিনটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে এই সমাবর্তন। আলাদা ভেন্যুতে হবে সাত কলেজের সমাবর্তন। সমাবর্তনে অংশ নিতে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বাধিক সংখ্যক গ্র্যাজুয়েট রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন।

বিগত বছরগুলোর তুলনায় বেড়েছে পদকও। এবার ১৫৩টি স্বর্ণপদক দেওয়া হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকের বিভিন্ন কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এসব স্বর্ণপদক দেওয়া হবে বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তাছাড়া সমাবর্তনে ৯৭ জনকে পিএইচডি, ২ জনকে ডিবিএ এবং ৩৫ জনকে এমফিল ডিগ্রি দেওয়া হবে।

১৯২৩ সালে প্রথম: দেশের বিশ্ববিদ্যালসমূহের মধ্যে সমাবর্তন প্রথম শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের হাত ধরে। সমাবর্তনে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাস বেশ উজ্জ্বল। ৯৬ বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ব্রিটিশ আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম নিয়মিত সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। আজকের (সোমবার) মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৫২ বার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে।

১৯২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম নিয়মিত সমাবর্তনে বাংলার তৎকালীন গভর্নর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর লর্ড লিটন (রোনাল্ডশে সিআইই) সমাবর্তন ভাষণ দেন। এরপর ১৯২৪ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই (সর্বমোট ২৪ বার) সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ আমলে শেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালের ২১ নভেম্বর।

পাকিস্তান আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ। ২৪ মার্চের সেই সমাবর্তনে কার্জন হলে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠার দাবিকে নাকচ করে দিয়ে জঘন্যতম ভাষণ দিয়েছিলেন তার প্রতিবাদে সমাবর্তন স্থলেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং ছাত্ররা দাঁড়িয়ে নো নো বলে তীব্র প্রতিবাদ করেন, তারই ধারাবাহিকতায় পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলন আরো বেশি গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। ১৯৫২ সালের সমাবর্তনের তারিখ নির্দিষ্ট ছিল ২৪ ফেব্রুয়ারি কিন্তু মহান ২১ ফেব্রুয়ারির ঐ ঘটনায় আর হতে পারেনি। সে বছর ১৭ ডিসেম্বর সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মোট ১৫ বার সমাবর্তন হয়।

১৯৬৪ সালের সমাবর্তন ছিল এক পণ্ডময় সমাবর্তন, তখনকার তত্কালীন উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক ড. এম ওসমান গনি ও চ্যান্সেলর আবদুল মোনায়েম খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সেবারই প্রথম কোন সমাবর্তনে চ্যান্সেলর ও ভাইস চ্যান্সেলর উভয়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন। কিন্তু মোনায়েম খানের কাছ থেকে ডিগ্রি নিতে ছাত্র-ছাত্রীরা অস্বীকার করলে এই সমাবর্তন পণ্ড হয়ে যায়। পাকিস্তান আমলে সর্বশেষ সমাবর্তন হয় ১৯৭০ সালে ৮ মার্চ; সেটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯তম সমাবর্তন।

স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো (৪০তম) সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে সমাবর্তন উদ্বোধন করার কথা ছিল; কিন্তু তার আগেই ভোররাতে ঘটে যায় সেই নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড, ১৫ আগস্ট ট্র্যাজেডি ফলে তখন সমাবর্তন স্থগিত করা হয়।

এরপর স্বাধীন বংলাদেশে প্রথম সমাবর্তন (৪০তম) অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর যা ছিল দীর্ঘ ২৯ বছর বিরতির পর। এরপর সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০০১, ২০০৪, ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯, ২০১২, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সব থেকে বৃহত্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের মার্চ মাসে (৪৭তম), প্রধান বক্তা ছিলেন ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন-এর মহাসচিব প্যাসকেল ল্যামি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৩ সালে। এটিও সমাবর্তন ইতিহাসের এক অনবদ্য সংযোজন, সমাবর্তনের প্রধান বক্তা ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রথমবারের মত প্রথম সম্পূর্ণ বাংলায় সমাবর্তন ভাষণ দিয়েছিলেন।

২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল ৪৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (সার্ন)-এর মহাপরিচালক অধ্যাপক রোল্ফ হুয়ের।তাকে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ৪৯তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তা ছিলেন জেনেভাভিত্তিক মেধাস্বত্ব সংগঠন ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক ফ্রান্সিস গ্যারি। ২০১৭ সালের ৪ মার্চ ৫০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৭ হাজার ৮৭৫ জন গ্র্যাজুয়েট অংশগ্রহণ করেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারিও’র প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক অমিত চাকমা। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাকে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবর্তনে ২১ হাজার ১১১ জনকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছিল। এই সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এই সমাবর্তনে বক্তা হিসেবে জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

সর্বশেষ, ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাবির ৫২ তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সমাবর্তনে মোট ২০ হাজার ৭৯৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। শিক্ষা ও গবেষণা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৭৯ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে ৯৬টি স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। ৫২তম সমাবর্তনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত জাপানের নোবেল বিজয়ী পদার্থবিদ রয়েছেন ড. তাকাকি কাজিতা। তাকে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করেন মো. আবদুল হামিদ।

পাঠকের পছন্দ

মন্তব্য করুন