আগেই মোবাইল কলচার্জ বাড়ানোয় বিটিআরসির কড়া চিঠি

জাতীয় সংসদের বাজের পাসের আগেই মোবাইলে কথা বলা ও ইন্টারনেটে ব্যবহারে নতুন শুল্ক কার্যকর করার বিষয়ে দেশের মোবাইল অপারেটরগুলো কড়া ভাষায় চিঠি নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

বাজের পাসের আগে এই শুল্ক আরোপ-কেন করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা চেয়ে শনিবার (১৩ জুন) ই-মেইল করে এ চিঠি পাঠিয়েছে বিটিআরসির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফারহান আলম।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মোবাইল ফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর বাজেটে যে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, তা ইতোমধ্যেই আরোপ করা শুরু করেছে অপারেটরেরা। বিষয়টি বিটিআরসির নজরে এসেছে। এটা প্রমাণিত হলে নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিষয়টি প্রমাণিত হলে কী কী শাস্তি হতে পারে তাও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। বলা হয়েছে, যেসব শাস্তি হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে, সব ধরনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেয়া বন্ধ করে দেয়া। সব সেবা ও ট্যারিফ অনুমোদন বন্ধ করে দেয়া।

বিটিআরসি বলছে, বাজেটে যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে তা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু এখনই সেটা কার্যকর করা হয়েছে। সে কারণে অপারেটরগুলোকে এই চিঠি দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ গণমাধ্যমকে বলেন, সম্পূরক শুল্ক ও অন্যান্য শুল্ক আরোপ করা হলে সেটা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়। কারণ, তা না হলে অপব্যবহার করার সুযোগ থাকে। যেমন, বাজেটে গাড়ির ওপর যদি বাজেট ঘোষণাকালে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়, আর কার্যকর হয় জুলাই থেকে, তাহলে আগে গাড়ি আমদানি করে রাখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেটে সরকার মোবাইল ফোনে সব ধরনের সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। বাজেট ঘোষণার পর ওই দিনগত রাত থেকেই কোনো কোনো অপারেটর তা কার্যকর করার কথা জানায়।

এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ গণমাধ্যমকে বলেন, মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক বসানো ঠিক নয়। কারণ এ ধরনের কর সাধারণ মানুষের ওপর বেশি প্রভাব ফেলে।

এবার বাজেট ঘোষণার আগে বিশ্লেষকেরা এবং কোম্পানিগুলো বলে আসছিল, মোবাইল সেবায় কর বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষ চাপে বেশি পড়বে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কর (মূসক বা ভ্যাট) ১৫ শতাংশ, সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশ ও সারচার্জ ১ শতাংশ। ফলে বর্তমানে মোট কর দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রাহক এখন মোবাইলে ১০০ টাকা রিচার্জ করলে সেখান থেকে ২৫ টাকা কর হিসাবে সরকারের কাছে যাবে। বাজেটের পূর্ব পর্যন্ত এটি ছিল প্রায় ২২ টাকা।

বিগত কয়েকটি বাজেটে মোবাইলে সেবার ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১ শতাংশ সারচার্জ আরোপ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক,২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫ সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে আর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়।

দেশে বর্তমানে ১৬ কোটি ৫৩ লাখের বেশি মোবাইল গ্রাহক রয়েছে। এ খাত থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আসে। বিশেষ করে শীর্ষ দুই মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির হিসাবে, সরকারের কোষাগারে বিভিন্ন কর ও ফি বা মাশুল হিসেবে তাদের মোট রাজস্ব আয়ের ৫৩ থেকে ৫৬ শতাংশ দিতে হয়।