অসহায়দের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

অসহায়দের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

‘সবার সুখে হাসব আমি কাঁদবো সবার দুখে, নিজের খাবার বিলিয়ে দিব অনাহারীর মুখে’ পল্লি কবি জসিমউদ্দীনের এই কবিতার লাইন পড়েছি অনেকেই কিন্তু আমরা কজনই বা পাড়ি অন্যের মুখে খাবার তুলে দিতে!
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, লকডাউনের কঠিন পরিস্থিতি আর রাস্তাঘাটসহ সব ধরনের কাজের পথ বন্ধ হয়ে এখন পথে পথে ঘুরছে নিম্নআয়ের মানুষ। এমন এক সময়ে নিজেদের ক্ষুদ্র ব্যবসার লাভের একটি অংশ দিয়ে অসহায়দের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

অসহায়দের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করছে তারা। শুধু ইফতার বিতরণই নয়, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে একটি মহৎ পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। ঈদে অসহায় পথশিশু ও খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য ঈদের প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ও জামাকাপড় কিনে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। এখন এ পরিকল্পনাকে সফল করার জন্য পুরো দমে চেষ্টা করছেন তারা। অসহায়দের যাতে সুন্দর একটি ঈদ উপহার দিতে পারেন সেজন্য পুরো আয়োজন করছে তারা।

আর ঈদে অসহায়দের হাসি ফোঁটাতে নেয়া উদ্যোগের অর্ধেক নিজেরা বহন করবে এ সেশনের শিক্ষার্থীরা। সে কার্যক্রমে অংশ নিতে তারা প্রায় ১০০ জনের মতো সহপাঠী একত্র হয়ে কাজ করছেন। যারা ঈদে তেমন কিছু কেনার সামর্থ্য রাখে না তারাও যাতে ঈদ আনন্দে মেতে উঠতে পারে সে লক্ষ্যেই তাদের এমন উদ্যোগ।

উদ্যোগের সাথে যুক্ত ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা একটি সার্কেল উদ্যোগ নেয় অনলাইনে খেজুর বিক্রির। সেটি আলাদা কোনো পেইজ বা কোনো ওয়েবসাইটে নয়। নিজেরা তাদের পরিচিতদের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবসা করেন খেজুরের। সেখান থেকে লাভ হচ্ছে। আর সে লাভ থেকেই কিছু অংশ গরিবদের জন্য বিলিয়ে দিচ্ছেন তারা। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগসহ অনেকেই ইফতার সামগ্রী বিতরণ করছে তাই ইফতার তাদের মূল লক্ষ্য নয়। ঈদে অসহায়দের মুখে একটু হাসি ফোটাতে এখন তারা সব ধরনের চেষ্টা করছেন। প্রায় ৩০০-৪০০ অসহায়কে ঈদ সামগ্রী ও জামাকাপড় কিনে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে তারা।